সবুজে ঘেরা আগামী গড়ার প্রত্যয়ে পটুয়াখালীতে অতিদরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছে ব্র্যাক ও আড়ং সোস্যাল এন্টারপ্রাইজ। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদুল আলম এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকায়ন ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কো-অর্ডিনেটর মো. নেফাজ উদ্দিন, ইউপিজিপি কর্মসূচির কৃষিবিদ মো. আবদুস সালাম, শাখা ব্যবস্থাপক শংকর সিকদার, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দাবি) দিপংকর চক্রবর্তী, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মনজিৎ বিশ্বাস, আঞ্চলিক হিসাব ব্যবস্থাপক অসীম বিশ্বাস এবং ওয়াশ কর্মসূচির জেলা ব্যবস্থাপক মো. হোসেন আলী।
ব্র্যাকের আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজিপি) কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরে দেশের ৩৭টি জেলার ৪০ হাজার প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ৮০ হাজার ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পটুয়াখালী জেলায় ১ হাজার ৪৫০ জন প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলো।
ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে অতিদরিদ্র কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর টেকসই জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সম্পদ ও নগদ সহায়তা প্রদান করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বব্যাপী ব্র্যাকের এই দারিদ্র্য বিমোচন মডেল একটি সফল ও অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি।
আয়োজকরা জানান, শুধু চারা বিতরণ নয়, চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গাছের জন্য মজবুত খুঁটি ও বেড়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে গাছগুলো বেড়ে ওঠার উপযুক্ত পরিবেশ পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয় সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই সবুজ উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের টেকসই উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
