ঢাকার ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকার একটি টিনশেড কালি কারখানায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সমতল মাতৃভূমি
রাজধানীর ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউন যেন হঠাৎই ঢুকে পড়েছিল এক আগুনঘেরা দুঃস্বপ্নে—যেখানে শিখার লাল আভা ছুঁয়ে যায় মানুষের জীবন, আর ধোঁয়ার কালো মেঘ ঢেকে দেয় স্বাভাবিক দিনের আকাশ। সেই আগুনে দগ্ধ হয়েছেন দুইজন—কারখানার সহকারী অপারেটর সুজন এবং সাহসী ফায়ার ফাইটার নাঈম হোসাইন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা গড়িয়ে বিকেলের দিকে, জীবন আর আগুনের মধ্যকার সেই লড়াই থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ। সেখানে এখন চলছে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা—যেন আগুনের নির্মমতা আর জীবনের আকুতির মধ্যে এক নীরব সংগ্রাম।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার খবর আসে। পাশাপাশি দুটি কারখানা—একটি কালি তৈরির, অন্যটি প্লাস্টিক প্যাকেজিং সরঞ্জামের—মুহূর্তেই আগুনে গ্রাস হতে থাকে। প্রথমে দুটি ইউনিট ছুটে এলেও আগুনের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে থাকে, যেন শিখাগুলো নিজেই ছুটে বেড়াচ্ছে সবকিছু গ্রাস করতে। পরে ধাপে ধাপে আটটি ইউনিট যোগ দেয় আগুন নেভানোর যুদ্ধে। দীর্ঘ চেষ্টার পর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে—ততক্ষণে অনেক ক্ষত রেখে গেছে পেছনে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ অবস্থায় আনা দুইজনের মধ্যে সুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক—তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্যদিকে, নাঈম হোসাইন, যিনি অন্যদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তার ডান পায়ে সামান্য দগ্ধ হয়েছে—এক সাহসী যোদ্ধার নীরব চিহ্ন যেন।
এই আগুনের ঘটনায় যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—শিল্পাঞ্চলের ব্যস্ততার ভেতর কতটা নীরবে লুকিয়ে থাকে বিপদের আগুন। আর সেই আগুনের মাঝেই কিছু মানুষ, নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে, ভালোবাসার মতো করেই লড়ে যান অন্যের জীবন বাঁচাতে।
