শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রভাব, পোষ্টিং ও অর্থের ছায়া—খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিনকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ নতুন করে আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ ছবি সংগৃহীত

রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনার কেন্দ্রেই উঠে এসেছে খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর নাম। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, বদলি বাণিজ্য, প্রভাব খাটানো ও অনিয়মের অভিযোগ আবারও সামনে এনেছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

রাজনৈতিক পরিচয় বদল—অভিযোগের কেন্দ্রে ‘প্রভাবের রাজনীতিতে জড়িয়ে নানা অনিয়ম অপকর্মে জড়িত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক–এর ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে পূর্ববর্তী সরকার আমলে তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তার করেন এবং রেজিস্ট্রি অফিসকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও প্রশাসনিক কাঠামোয় তার অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে দীর্ঘদিন থাকা কিছু কর্মকর্তার ক্ষেত্রে “ক্ষমতার সঙ্গে অভিযোজন” একটি পরিচিত বাস্তবতা। ফলে সরকার বদলালেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকার ঘটনা নতুন নয়।

পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ- দলিল লেখক ও সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পছন্দের পোস্টিং ঘিরে অনিয়মের একটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে প্রভাব বিস্তারের আলোচনা
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সেবা কার্যক্রমে অঘোষিত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ। তাদের ভাষ্য, এ কারণে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ সেবা প্রত্যাশীদের ভোগান্তি দিনদিনই বেড়েছে। তবে সেবা গ্রহীতাদের একটাই প্রশ্ন ভোগান্তি শেষ কবে।

রাজস্ব ফাঁকি ও দলিল অনিয়মের নানা অভিযোগ তুঙ্গে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে দলিল শ্রেণি পরিবর্তন বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে অতীতে অভিযোগ দেওয়া হলেও দৃশ্যমান তদন্ত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের একাংশের।

প্রশাসনিক নীরবতা ও তদন্তের দাবি- দুর্নীতি দমন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো তদন্তের তথ্য না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক নীরবতা আছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; বরং প্রশাসনিক কাঠামোর জবাবদিহি সংকট, ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ ঘুরেফিরে সামনে আসা মানে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।