বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণপূর্তে ‘প্রকৌশলী না ঠিকাদার’ বিতর্ক: তৈমুর আলমকে ঘিরে কোটি টাকার কমিশন সিন্ডিকেটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ২৭, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আট বছর ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকার পথে তৈমুর আলম, উঠছে দুর্নীতি–প্রভাব বাণিজ্যের প্রশ্ন। ভাইকে সামনে রেখে কোটি টাকার খেলায় তৈমুর আলম? আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে অভিযোগ। ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অধিদপ্তরের ভেতরে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—তিনি কি সত্যিই একজন সরকারি প্রকৌশলী, নাকি প্রকৌশলীর পরিচয়ে প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক?

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে প্রভাব বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি একটি শক্তিশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ বণ্টন হয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর আওতাধীন অধিকাংশ বড় প্রকল্পে একই গ্রুপের ঠিকাদার বারবার কাজ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হতো যাতে পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তার ছোট ভাই অংকুরের ভূমিকা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ভাইয়ের প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে অংকুর ঠিকাদারি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবেও কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি বদলি নীতিকে উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করায় তৈমুর আলমকে ঘিরে একটি ‘দুর্ভেদ্য বলয়’ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় একই স্থানে থাকায় তিনি এমন এক প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নেই; গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫–এ সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান ১৫তম ব্যাচের প্রকৌশলীরা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অবসরে গেলে আগামী ২৪ ডিসেম্বর তৈমুর আলম অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে পারেন বলে জানা গেছে। আর এ নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে দপ্তরের ভেতরে। অনেকের আশঙ্কা, অভিযোগে জর্জরিত একজন কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় শীর্ষ পদে থাকলে পুরো প্রকৌশল ব্যবস্থাই প্রভাব ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীদের দাবি, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার অংশ। তাদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগই বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তাদের নজরে এসেছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।