রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় এক ঘরে তিন লাশ: নানীর গলা কাটা, দুই নাতির নিথর দেহ উদ্ধার, রহস্যে ঘনীভূত শোক

খুলনা জেলা প্রতিনিধি
মে ৩১, ২০২৬ ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতীকী ছবি

খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মসজিদ রোডের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক নানী ও তার দুই নাতির মরদেহ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা। নানীকে গলা কেটে এবং দুই নাতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে স্থানীয়দের সহায়তায় বাড়িটির ভেতর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন বেবী বেগম (৫৫), তার দুই নাতি শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)।

ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশু দুটির মা ফাতেমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এদিকে তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, র‍্যাব ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি ট্রাকচালক রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন। প্রথম সংসারের দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল। এই দুই শিশুকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই বিরোধ ও ঝগড়ার সৃষ্টি হতো বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

শনিবার বিকেলে ফাতেমার খালা ওই বাড়িতে বেড়াতে এসে দেখতে পান দরজায় তালা ঝুলছে। একই সঙ্গে ঘরের ভেতর থেকে বের হচ্ছিল দুর্গন্ধ। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন এবং স্থানীয়দের খবর দেন।

পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেন, তা ছিল রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। খাটের নিচে পড়ে ছিল বেবী বেগমের নিথর দেহ। ট্রাংকের ওপর পাওয়া যায় কিশোর শামীমের মরদেহ। পরে সিআইডির সদস্যরা ঘরের ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে উদ্ধার করেন চার বছরের শিশু মুস্তাকিমের মরদেহ।

ঘটনাস্থলে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাতেমা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম প্রথম পক্ষের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতেন না। তার দাবি, শনিবার সকালে রফিকুল বাইরে থেকে ঘরে তালা লাগিয়ে কাজে চলে যান। পরে ঘুম থেকে উঠে তিনি মা ও সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ঠিক সেই সময় তার খালা বাড়িতে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশু দুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একটি পরিবারের ভেতরে জমে থাকা অস্থিরতা, দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত তিনটি প্রাণ কেড়ে নিল কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এদিকে এক ঘরে পাওয়া তিনটি নিথর দেহের স্মৃতি খুলনার মানুষের হৃদয়ে রেখে গেছে গভীর শোক, বেদনা ও অসংখ্য অনুত্তরিত প্রশ্ন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।