ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস আর পুরনো ক্ষোভের জটিল এক গল্পের করুণ পরিণতি—নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল। মারামারি, অপমান আর টাকার হিসাব—সব মিলিয়ে জমে থাকা আগুন একসময় দাউদাউ করে জ্বলে উঠে কেড়ে নিল একটি প্রাণ।
পুলিশ বলছে, একসময় একই ছায়ায় চলা বন্ধুরাই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মৃত্যুর দূত। পুরনো মারধরের ক্ষোভ আর আর্থিক লেনদেনের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে আসাদুল ও আকতার হোসেন। সেই ক্ষতই একদিন প্রতিশোধের রূপ নেয়—পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে মধ্যরাতে ছুরিকাঘাত আর ইটের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাকে।
শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে—মুন্না, আকতার হোসেন, মিরাজ ফকির ও নয়ন ওরফে খোকন। তাদের কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার এবং একটি মোটরসাইকেল—যেন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই ভয়াল রাতের।
ঘটনার পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর অন্ধকার। কিছুদিন আগে আকতারকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছিলেন আসাদুল। সেই ঘটনার জেরে মামলাও হয়েছিল, জেলেও যেতে হয়েছিল তাকে। জামিনে বেরিয়ে আসার পরও থামেনি দ্বন্দ্ব—বরং প্রতিশোধের আগুন আরও দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে।
নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং রিমান্ডের আবেদনও করবে পুলিশ। এদিকে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আসাদুলের নামে আগে থেকেই ছয়টি মামলা ছিল, যার মধ্যে চারটি মাদক সংশ্লিষ্ট। অন্যদিকে গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে রয়েছে সাতটি, মিরাজ ও নয়নের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। আকতারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা না পাওয়া গেলেও তার রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর—অপরাধের এক জটিল মানচিত্র। প্রতিদিন অভিযান, তবুও থামছে না অপরাধের ছায়া।
রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান—প্রতিটি অলিগলি যেন গল্প বলে অস্থিরতার। তবে পুলিশ বলছে, বাইরে থেকে আসা সন্ত্রাসীদের গতিবিধি রুখতে আরও জোরদার করা হবে চেকপোস্ট ও নজরদারি।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায়, সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন অন্ধকার রাস্তায় ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। বরিশালের গৌরনদীর কালনা এলাকার ছেলে আসাদুল, পরিবার নিয়ে থাকতেন মেট্রো হাউজিংয়ের একটি ভাড়া বাসায়—স্বপ্ন ছিল, জীবন ছিল… কিন্তু শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বের বিশ্বাসঘাতকতায় নিভে গেল তার সব আলো।
