উৎসব প্রাঙ্গণের স্টলে দর্শনার্থীরা
ঢাকের ছন্দ, গানের মূর্ছনা আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে নতুন দিনের আহ্বান—এভাবেই বসুন্ধরা ইয়োগা সোসাইটি বরণ করে নিল বাংলা নববর্ষকে, যেন শহরের বুকে এক টুকরো গ্রামবাংলার প্রাণের স্পন্দন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা রঙিন হয়ে ওঠে বৈশাখী আবহে। ব্যাংক এশিয়া মোড় থেকে শুরু হওয়া প্রাণবন্ত র্যালিটি এগিয়ে চলে উচ্ছ্বাসে ভরা মানুষের পদচারণায়, শেষ হয় বসুন্ধরা আই হাসপাতালের সামনে। র্যালির উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও ইয়োগা সেন্টারের প্রধান নির্বাহী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মহসিনুল করিম।
“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”—এই চিরচেনা আহ্বানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কণ্ঠে ছিল আনন্দ, চোখে ছিল নতুন শুরুর স্বপ্ন।
র্যালি শেষে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ইয়োগা সেন্টারে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী আয়োজন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলানিউজ২৪.কম-এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু।

তিনি বলেন, বসুন্ধরা এলাকায় এমন প্রাণবন্ত ও বৃহৎ বৈশাখী আয়োজন আগে দেখা যায়নি—এ যেন ব্যস্ত নগরজীবনে এক টুকরো হৃদয়ের মিলনমেলা, যেখানে মানুষ খুঁজে পায় আপনজনের উষ্ণতা।
তিনি আরও জানান, এখানে যোগব্যায়াম কার্যক্রম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হচ্ছে—যা শুধু শরীর নয়, মনকেও করে তোলে প্রশান্ত।
আয়োজক সোসাইটির আহ্বায়ক মনিরুল আলম জানান, প্রতিদিন দুই সেশনে দুই শতাধিক সদস্য নিয়মিত যোগব্যায়ামে অংশ নেন—যেন শরীর ও আত্মার এক অপূর্ব সংলাপ।
দিনভর উৎসবে ছিল বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণ, দেশীয় খাবারের রঙিন স্টল আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মায়াবী আবেশ। প্রতিটি মুহূর্ত যেন ভালোবাসা, ঐতিহ্য আর আনন্দের এক সুরেলা গল্প বুনেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়োগা প্রশিক্ষক মোতাহার হোসেন, ডা. তোফাজ্জল হোসেন জুয়েলসহ সোসাইটির সম্মানিত সদস্যরা। আর সুরের জাদু ছড়িয়ে দেন সাজেদা সাজ্জাদ, আফসানা রহমান নিক্কণ, সারোয়ারী খানম, রওশন, শাম্মী রহমান, তামান্না, জেসমিন, মনিরা, রাফিজা সুলতানা ও মিজানুর রহমান ভুঁইয়া।
সব মিলিয়ে, বসুন্ধরার এই বর্ষবরণ শুধু একটি আয়োজন নয়—এ যেন হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের এক নীরব, রোমাঞ্চকর ও রঙিন সংলাপ, যেখানে বৈশাখ আসে নতুন ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।
