জিরো টলারেন্স নীতি, শৃঙ্খলাবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে বহুমুখী উদ্যোগ। ফাইল ছবি
শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা হলো মানুষ গড়ার শিল্প, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহা. আব্দুল লতিফ শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রহণ করেছেন একাধিক যুগোপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বর্তমান সময়ে যখন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদক, সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় ও শিক্ষাবিমুখতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে সুস্থ, নিরাপদ ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন অধ্যক্ষ ড. আব্দুল লতিফ। তিনি ঘোষণা করেছেন মাদক, সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা ও ক্যাম্পাস অস্থিরতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

অধ্যক্ষের মতে, একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না; তাকে হতে হবে নৈতিক, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক। তাই নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়
ড. আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, কলেজ ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, মাদক একটি জাতির মেধা ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান বজায় থাকবে।
অস্থিরতা নয়, চাই আলোচনার সংস্কৃতি
শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা মতবিরোধ দূর করতে উন্মুক্ত আলোচনা, মতবিনিময় সভা এবং কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধ্যক্ষ মনে করেন, ভয় বা শাস্তি নয়; বরং সহমর্মিতা, সংলাপ এবং মানসিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।
পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি মানবিক শিক্ষা
শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো গুণাবলি অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। তার ভাষায়, একজন শিক্ষার্থী যদি ভালো মানুষ না হয়, তবে তার শিক্ষাজীবনের সাফল্য পূর্ণতা পায় না।
শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও তৎপর প্রশাসন
কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত তদারকি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত ও শিক্ষাবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান
শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ড. আব্দুল লতিফ। তিনি চান, শিক্ষার্থীরা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াক, কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করুক এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা পালন করুক। তার মতে, মানুষের জন্য কাজ করাই প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশংসা
অধ্যক্ষের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম কুষ্টিয়া সরকারি কলেজকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অনেকেই বলছেন, ড. আব্দুল লতিফের এই উদ্যোগ শুধু একটি কলেজ নয়, বরং দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
শিক্ষার নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অধ্যক্ষ ড. আব্দুল লতিফের দূরদর্শী নেতৃত্ব, শিক্ষাবান্ধব পরিকল্পনা এবং মানবিক মূল্যবোধনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে কলেজটি ভবিষ্যতে শিক্ষার উৎকর্ষ, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা যখন কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষ গড়ার মহৎ অভিযাত্রা—তখন ড. আব্দুল লতিফের এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কুষ্টিয়ার শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন আলোর প্রদীপ হয়ে জ্বলবে।
