শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৫, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি। প্রতীকী ছবি
সাভারের পূর্ব শাহিবাগ এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার ৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে পর্যায়ক্রমে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা (নং-১১০) দায়ের করা হয়। মামলা হওয়ার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে ঢাকা জেলা পুলিশ।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সাভার ও আশুলিয়া মডেল থানা পুলিশ এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
অভিযানে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বড়াইবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মামলার প্রধান আসামি তাহমিদ হাসান রাফি (১৫), বরগুনার বেতাগী এলাকায় নানার বাড়ি থেকে মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েম (১৩) এবং সাভারের চাপাইন তালতলা এলাকায় বাবার ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ বিন মুক্তারকে (১২) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন (২১) এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে মো. কামরুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার বড়াইবাড়ি এলাকার দেওয়ান আবু রায়হানের ছেলে তাহমিদ হাসান রাফি (১৫), বরগুনার বেতাগী থানার সুবিদখালি এলাকার মো. পলাশের ছেলে মো. সাজেদুল ইসলাম সায়েম (১৩), জামালপুর সদর থানার মাটিখোলা মৈমুনা এলাকার মুক্তারের ছেলে মোহাম্মদ বিন মুক্তার (১২), ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার নয়আনী এলাকার মো. কাবুলের ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন (২১) এবং সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার কালিকাপুর এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (২৬)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুই শিক্ষককে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার তিন শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার কিশোর সংশোধন কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
