শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপরাধের অন্ধকার ভেদ করে বদলে যাচ্ছে ময়মনসিংহ, জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ে ফিরছে স্বস্তি, রাতের শহরে বাড়ছে মানুষের আস্থা

মামুনুর রশীদ মামুন
মে ৮, ২০২৬ ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

একসময় সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত ময়মনসিংহ নগরীতে। চুরি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি আর সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ে সাধারণ মানুষের মনে ছিল এক ধরনের অজানা শঙ্কা। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পথচারী—সবাই ছিলেন উদ্বেগে।

তবে সেই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ধারাবাহিক অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ের ফলে ময়মনসিংহে ফিরছে স্বস্তি, বাড়ছে মানুষের আস্থা।
নগরী থেকে উপজেলা—সবখানেই এখন আলোচনায় জেলা পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা। স্থানীয়দের ভাষায়,আগের সেই ভয়ভীতি এখন অনেকটাই কমেছে।

এদিকে শূন্য সহনশীলতা নীতিতে কঠোর জেলা পুলিশ-
জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধ দমনে শুরু হয়েছে ধারাবাহিক তৎপরতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, মাদকবিরোধী অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি, রাতভর টহল এবং থানাভিত্তিক সমন্বিত অভিযান—সব মিলিয়ে মাঠে এখন অনেক বেশি দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি।

এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুলিশ সুপার বলেন,
মাদক, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তার এই অবস্থানের ফলে জেলা পুলিশের ভেতরেও এসেছে জবাবদিহিমূলক পরিবেশ—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, বদলাচ্ছে মানুষের অভিজ্ঞতা-একসময় অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষের। অনেক ভুক্তভোগীই থানায় যেতে ভয় পেতেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন।

স্থানীয়দের দাবি, এখন অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ সরাসরি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। অভিযোগ জানালে দ্রুত প্রতিক্রিয়াও মিলছে। নগরীর ব্যবসায়ী, শিক্ষক, পরিবহন শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন—
আগে সমস্যা বলার জায়গা ছিল না, এখন অন্তত কথা শোনা হচ্ছে।

রাতের শহরে ফিরছে স্বস্তি-ময়মনসিংহ নগরী ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত টহল দেখা যায়। সন্দেহভাজন অপরাধীদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিশেষ করে মাদক ও চাঁদাবাজিবিরোধী অভিযানের কারণে অপরাধ পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

আবার রাতের বেলায় চলাচল, ব্যবসা পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও ফিরেছে স্বস্তি। অনেকেই বলছেন, আগের মতো আতঙ্ক এখন আর কাজ করে না। অনেক স্বস্তি নিয়ে যাতায়াত করতে পেরে পুলিশের সুনাম বেড়েছে।

জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ে ইতিবাচক আলোচনায় ময়মনসিংহ। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান নয়—জনগণের সঙ্গে উন্মুক্ত যোগাযোগ, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং অভিযোগ আমলে নেওয়ার সংস্কৃতিই ময়মনসিংহ জেলা পুলিশকে আলাদা করেছে।

দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম কিংবা অভিযোগের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডে এসেছে গতি ও জবাবদিহিতা।
এবিষয়ে সমাজসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, কেবল গ্রেপ্তার নয়, জনগণের আস্থা অর্জনই এখন বড় বিষয়। সেই জায়গাতেই পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে ময়মনসিংহ। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক পরিবর্তন স্থায়ী করতে হলে রাজনৈতিক চাপমুক্ত পেশাদার পুলিশিং, নিরপেক্ষতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, জনগণের আস্থা অর্জন যত কঠিন—সেটি ধরে রাখা আরও কঠিন।

তবুও সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহে যে পরিবর্তনের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা অনেকের কাছেই আশার আলো হয়ে উঠেছে।

জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—
এই জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ আরও নিরাপদ, শান্ত ও অপরাধমুক্ত শহরে পরিণত হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।