রবিবার, ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমিল্লা জেলা পরিষদের টাকা নিয়ে নতুন বিতর্ক: আসিফের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি, হাসনাতের বিরুদ্ধে ১০ কোটির অভিযোগ

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
মে ৩০, ২০২৬ ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া

রাজস্ব নাকি বিশেষ বরাদ্দ? কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিস্ফোরক বক্তব্য।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া বলেন, জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। যারা বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বলতেন, তাদের মধ্যেই সেই বৈষম্যের প্রতিফলন দেখা গেছে।

তবে অভিযোগের জবাবে আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ দুজনেই দাবি করেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজস্ব তহবিল ও এডিপি বা বিশেষ বরাদ্দের অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং মুরাদনগর ও দেবিদ্বারের প্রকল্পগুলোও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এসব অর্থ বিধি মেনেই ব্যয় হয়েছে এবং তার সব নথি জেলা পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে।

অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেবিদ্বারের জন্য ১০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিও স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় এডিপি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রশাসকের বক্তব্যে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়েছি, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন রাতে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারি অর্থ রাজস্ব খাতের হোক বা বিশেষ বরাদ্দের—সবই জনগণের টাকা। তিনি জানান, মুরাদনগর ও দেবিদ্বারে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার এই লড়াই শুধু অর্থ বরাদ্দের হিসাব-নিকাশ নয়, বরং কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা করেছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এটি কি কেবল প্রশাসনিক ভুল বোঝাবুঝি, নাকি তদন্তে বেরিয়ে আসবে আরও চাঞ্চল্যকর কোনো তথ্য?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।