সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
মহান অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা কমিটি। সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিশ্ব শ্রমিকশ্রেণিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জীবনমান রক্ষায় জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে শহরের বাবর আলীগেট এলাকায় সংগঠনের কার্যালয় থেকে লাল পতাকা মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক সোলায়মান পারভেজ। বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মোকতারুল ইসলাম মুক্তি, হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি রমজান বিশ্বাস এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সদর উপজেলা সভাপতি তোরাপ আলী ব্যাপারী।
বক্তারা বলেন, ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণি ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সেই বিপ্লবের শিক্ষা ধারণ করে দেশে দেশে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে।
তাঁরা বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মধ্যে বিশ্ববাজার ও প্রভাববলয় দখলের প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এর জেরে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত-সংঘর্ষের বিস্তার ঘটছে, তৈরি হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাও। ইউক্রেন যুদ্ধ, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকশ্রেণি ও সাধারণ মানুষকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও তীব্র হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি শ্রমিক-কর্মচারীর জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার কার্যকর উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় দেশকে জড়িয়ে ফেলার আশঙ্কাও রয়েছে।
সমাবেশ থেকে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যার বিচার ও নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সংগতিপূর্ণ মজুরি ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।
বক্তারা এসব দাবি বাস্তবায়নে ১০ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পলান বিশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যুগ্ম আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় পাল।
