ছবি সমতল মাতৃভূমি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষী রেলওয়ে পুকুরটি যেন আজ অস্তিত্ব সংকটে। সরকারি নিয়মে পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ হলেও ভেড়ামারা বাজারের গমপট্টির পেছনের ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয় দখল ও ভরাটের মহোৎসব চলছে প্রকাশ্যেই। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় জনগণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ, বিভিন্ন সভা-সেমিনার এবং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রভাবশালী মহল যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা, পুকুর ভরাট এবং দখলদারিত্বের কর্মকাণ্ড দিনের পর দিন চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই।
জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—আইন কি শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য? প্রভাবশালীদের জন্য কি সবকিছুই বৈধ? স্থানীয়দের ভাষায়, “রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন আইনের বাণী নিভৃতে কাঁদে।
পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি শতবর্ষী জলাশয় শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। বিশেষ করে ভেড়ামারা বাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এই পুকুরের পানি হতে পারত তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রধান উৎস।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দখল ও ভরাটের এই অবাধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে খুব শিগগিরই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে শতবর্ষের সাক্ষী এই জলাশয়। তাই ভেড়ামারাবাসী অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, রেলওয়ে প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রশ্ন এখন একটাই—ঐতিহ্য, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কি জেগে উঠবে, নাকি দখলদারদের কাছে হার মেনে ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় চিরতরে মুছে যাবে?
