প্রতিটি কর্মস্থলেই বিতর্কের ছাপ; টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এ যোগদানের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন। নিরীক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রশাসকের একান্ত সচিব (পিএস) এবং আইন কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের কারণে নগর ভবনে তার প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ক্ষমতার বলয়ে অবস্থান করে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবিরনির্ভর প্রশাসন পরিচালনা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির নানা অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন মনোয়ার হোসেন।
সরকারি চাকরিজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিতর্কের কারণে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। কখনো জনপ্রতিনিধির সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ, আবার কখনো প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।
চাকরিজীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে যাচ্ছেন?
এদিকে ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নগর ভবনে বর্তমানে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মনোয়ার হোসেনের প্রভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা নিজেদের মতামত ও আপত্তি যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি মূলত নিরীক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বই পালন করছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা টেন্ডার বা বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগর ভবনের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এই কর্মকর্তাকে ঘিরে অভিযোগ ও বাস্তবতার ব্যবধান কতটা—সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
