ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর ভারতে আত্মগোপনে থাকার পর দেশে ফিরেই আলোচনার কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির মোড়ল। শুক্রবার জুমার নামাজের পর তার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই দিনে রাজধানীর রামপুরা এলাকাতেও নিষিদ্ধ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজীপুর মহানগরের উত্তরের শেষ সীমানা এবং সদর উপজেলার দক্ষিণের শেষ সীমানা সংলগ্ন এলাকায় নাছির মোড়লের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, দুই থানার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় তারা বিক্ষোভ করে। মহাসড়কে খুব অল্প সময় অবস্থান করলেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।
নাছির মোড়লের নেতৃত্বে হওয়া দুই মিনিট ৩২ সেকেন্ডের মিছিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। শ্রীপুরের পিয়ার আলী কলেজ শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান ঝলক সরকার তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভটি প্রচার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নাছির মোড়লের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং মহাসড়কে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন নাছির মোড়ল। সম্প্রতি ভারতের কলকাতায় গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরও তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভের প্রতিবাদে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল। ছাত্রলীগের মিছিলের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জয়দেবপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মিছিল বের করা হয়। কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে একই দিনে রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারের ৩ নম্বর গেট এলাকায়ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। সেখানে তারা কারাবন্দিদের মুক্তি এবং তুরাগে নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
