বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত নারী স্মৃতি রানী, বরগুনা কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। তিনি জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী দুলাল রায়। নিহত দুই শিশু তারই কন্যা সন্তান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষে প্রথমে প্রায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পাশের ৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় স্মৃতি রানী ও তার প্রায় ২ বছর বয়সী অপর কন্যা শিশুর মরদেহ। একই ভবনের দুটি কক্ষে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোক ও উদ্বেগের ছায়া।
বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্মৃতি রানী দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে আসেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই শিশুকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ঋণের চাপে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনই নিশ্চিত হতে রাজি নয় পুলিশ। বরগুনা থানার ওসি মো. আ. আলীম বলেন, “ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু বরগুনাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।
