শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাউফলে খুনের ঘটনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, মূল হোতাসহ ৬ জন গ্রেফতার

অপূর্ব সরকার
জুন ৫, ২০২৬ ৯:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর রবিন চন্দ্র হাওলাদার (রবিন্দ্র) হত্যাকাণ্ডে মূল আসামী রতন চন্দ্র বেপারীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, কালাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় হাওলাদার ও বেপারী বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মন্দিরের হিসাব-নিকাশ, স্থানীয় সালিশ-দরবারে ভিকটিম রবিন চন্দ্র হাওলাদারের সক্রিয় ভূমিকা, জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতিপক্ষকে সহযোগিতা এবং একটি বিয়ের ঘটকালিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

তবে সর্বশেষ উত্তেজনার সূত্রপাত হয় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পাইপ কেনার অর্থ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে। বাড়ির প্রতি পরিবার থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা নির্ধারণ করা হলেও প্রধান আসামী রতন চন্দ্র বেপারীর পরিবার সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় পাইপ কেনার টাকা চাইতে গেলে রবিন চন্দ্র হাওলাদার ও রতন চন্দ্র বেপারীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রতন লোহার রড দিয়ে রবিনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন। পরে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিন চন্দ্রকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর নিহতের ছেলে হৃদয় হাওলাদারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বাউফল থানায় মামলা (মামলা নং-১২) রুজু করা হয়। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক টিম বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার দিনই অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—

১. রতন চন্দ্র বেপারী (৩২) — প্রধান আসামী

২. প্রদীপ চন্দ্র বেপারা (২৫)

৩. আনন্দ চন্দ্র বেপারী (৬০)

৪. সুজন চন্দ্র বেপারী (২৬)

৫. সুশান্ত চন্দ্র বেপারী (৬৩)

৬. কুসুম রানী (৫৫)

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান আসামী রতন চন্দ্র বেপারী লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ব্যবহৃত লোহার হাতুড়ি, রড, পাইপ, শাবল, গাছের ডাল, লাঠিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর বেপারী গোষ্ঠীর সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। একই দিন সন্ধ্যায় নিহতের বিচার দাবিতে বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আসামীদের ফাঁকা বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কে বা কারা এ আগুন দিয়েছে তা নিশ্চিত না হলেও পুলিশের ধারণা, মানববন্ধন ও পরবর্তী বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।

ঘটনার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল ঘটনাস্থল ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি এলাকায় একটি অপরাধ সভা আয়োজন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলের পাশে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।