শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন: রহস্য ঘনীভূত, জিজ্ঞাসাবাদে ডিএইচএল কর্মীসহ কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৬, ২০২৬ ৮:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শুক্রবার ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের চেষ্টায় বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ছবি: সংগৃহীত

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে রহস্যের জন্ম হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, আগুন লাগার পেছনে কিছু ‘সন্দেহজনক’ বিষয় তাদের নজরে এসেছে। এ কারণে শনিবার কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএলের এক কর্মীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে কুরিয়ার সার্ভিসের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে একটি তথ্য—যে কনটেইনারে আগুন লেগেছে, সেখানে থাকা পণ্যগুলো আগামী রোববার নিলামে তোলার কথা ছিল।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, এভসেক পরিচালকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আগামীকাল তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও ডিএইচএলের মালপত্র সংরক্ষণের স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পরপর দুই দফা একই প্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।

এরই মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া একটি দৃশ্য তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছেই ডিএইচএলের এক কর্মী অবস্থান করছিলেন। তিনি সেখানে মশারি টাঙিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আগুনের সূত্রপাতের পরও প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট তিনি নির্বিকারভাবে আগুনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন বলে ফুটেজে দেখা গেছে। পরে ফোন করে অন্যদের বিষয়টি জানান। তার এই আচরণ তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এই প্রথম নয়। গত বছরের ১৮ অক্টোবর একই কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। তখন ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আগুন নেভাতে গিয়ে আনসার বাহিনীর ২৫ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন আহত হন।

সাম্প্রতিক এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম হলেও প্রকৃত কারণ জানতে এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। তদন্তের ফলই বলে দেবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো রহস্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।