ভুক্তভোগী অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (বামে) ও আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাই চলচ্চিত্রের মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী আশিয়ান গ্রুপ ও আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক বিয়ের চাপ, প্রাণনাশের হুমকি এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করানোর অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই রাতে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে অবস্থিত একটি অফিস কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের চুক্তির কথা বলে ডেকে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
স্নিগ্ধা চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচিত এক মডেল কো-অর্ডিনেটরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার একটি বিজ্ঞাপনী কাজের প্রস্তাব পান তিনি। চুক্তি সম্পন্ন করার কথা বলে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে তিনি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ কয়েকজনকে দেখতে পান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে তাকে অন্য এক নারীর পরিচয়ে সম্বোধন করে জোরপূর্বক একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর বিয়ে করতে চাপ, প্রাণনাশের হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়, কুসুম গরম কফি ঢেলে দেওয়া হয় এবং পরে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশ্রিত কফি পান করতে বাধ্য করা হয়।
একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মডেল কো-অর্ডিনেটর ইমন-এর ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও মারধর করা হয় এবং তার পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয়।
স্নিগ্ধা চৌধুরী দাবি করেন, এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে ভবনের বারান্দা দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যান এবং একটি অটোরিকশায় উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবনের কাঠামো, অভিনেত্রীর উবার যাত্রার ডিজিটাল তথ্য এবং মোবাইল ফোনের লোকেশনসহ কয়েকটি তথ্য অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অনুসন্ধানী টিম দাবি করেছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন বিচারিক যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে অভিযুক্ত মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন বলেও জানান।
ঘটনার পর ২৬ জুলাই রাতে স্নিগ্ধা চৌধুরী খিলক্ষেত থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত নয় এবং অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
