ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরনো ছবি: নিউইয়র্ক টাইমসের সৌজন্যে
ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধ কক্ষে’ যেতে দেননি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ও উপদেষ্টারা। বিশেষ মূহূর্ত ছাড়া ওই অভিযানের প্রতি মিনিটের তথ্যও তাঁকে জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের অস্থির চিত্তের কারণেই সহকারীরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাদের ধারণা ছিল, প্রেসিডেন্টর ‘অস্থিরতা’ অভিযানে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে যখন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের খবর জানানো হয় তখন তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে উপদেষ্টাদের সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। বারবার বলতে থাকেন, ‘ইউরোপীয়রা আমাদের কোনো সাহায্যই করছে না।’
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাইলট ও ক্রু নিখোঁজের ওই ঘটনাকে ট্রাম্প সত্তর দশকের ‘ইরান জিম্মি সংকটের’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। উপদেষ্টাদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘জিমি কার্টারের সময় কী ঘটেছিল তা দেখুন। ওই একটি ঘটনাই নির্বাচনে হারের কারণ ছিল।
জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কৌশলগত ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারণ, ১৯৭৯ সালের পর থেকে ইরানের মাটিতে মার্কিন বাহিনীর সরাসরি কোনো অভিযান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না।
ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল করার বিষয়েও ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সামরিক উপদেষ্টারা। বলা হয়েছিল, এই অভিযান সফল হবে। কিন্তু আগের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কারণে ট্রাম্প সেখানে সেনা পাঠাতে রাজি হননি। সম্ভাব্য হতাহতের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘ওখানে আমাদের সেনারা সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
