শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাশুড়িকে হত্যার পর ‘সাক্ষী’ হয়ে ওঠে দুই শিশু, আদালতে সৎ বাবার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

খুলনা জেলা প্রতিনিধি
জুন ৬, ২০২৬ ৯:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম হাওলাদার। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার সোনাডাঙ্গায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় উঠে এসেছে হৃদয়বিদারক ও ভয়াবহ এক বর্ণনা। শাশুড়িকে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় একে একে দুই শিশুকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকার করেছেন তাঁদের সৎ বাবা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওরফে রফিক।

শনিবার দুপুরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। খুলনা মহানগর হাকিম মো. ফরিদুজ্জামান তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৩০ মে বিকেলে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেবী বেগম (৬২), শামীম (১৩) ও মুস্তাকিম (৪)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন ফাতেমা বেগম মেরী, যিনি দুই শিশুর মা এবং বেবী বেগমের মেয়ে।

ঘটনার পর শিশু দুটির জৈবিক বাবা মাসুম ব্যাপারী বাদী হয়ে সৎ বাবা রফিকুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গত শুক্রবার সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকা থেকে র‍্যাব-৬ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতে তাকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মন্ডল জানান, প্রায় চার বছর আগে প্রথম স্বামী মাসুম ব্যাপারীর সঙ্গে ফাতেমা বেগম মেরীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে সোনাডাঙ্গার ওই বাসায় বসবাস শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ট্রাকচালক রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করেন মেরী। তবে পরিবারের সবাই এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি।

বিশেষ করে মেরীর মা বেবী বেগম এবং বড় ছেলে শামীমের সঙ্গে রফিকের সম্পর্ক ছিল টানাপোড়েনপূর্ণ। প্রায়ই এ নিয়ে পারিবারিক কলহ ও তর্ক-বিতর্ক হতো। ঘটনার আগের রাতেও রফিক ওই বাসায় গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। রাত ১২টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান।

স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবারও ওই বাসায় ফিরে আসেন রফিক। তখন ঘরের দরজা খোলা ছিল। ঘরে প্রবেশ করতেই শাশুড়ি বেবী বেগম তাকে দেখে গালিগালাজ শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে শাশুড়িকে হত্যা করেন তিনি।

কিন্তু সেই হত্যাকাণ্ড দেখে ফেলে ১৩ বছর বয়সী শামীম। ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শামীমের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় ছোট ভাই মুস্তাকিমের। জেগে উঠে সেও হত্যার দৃশ্য দেখে ফেললে ট্রাংকের ওপর থাকা একটি পায়জামা দিয়ে চার বছরের শিশুটিকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন রফিক।

হত্যার পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে মরদেহগুলো ঘরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখেন তিনি। শাশুড়ি বেবী বেগমের মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর এবং ছোট্ট মুস্তাকিমের মরদেহ ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ারে গুঁজে রাখা হয়। এরপর বাসার দরজায় তালা ঝুলিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্ত।

নৃশংস এই ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির পর মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।