সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক দবিরুল ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠেন দবিরুল ইসলাম। আদর্শিক রাজনীতির পথ ধরে প্রথমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-তে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এ যোগ দেন এবং হয়ে ওঠেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন তিনি। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন নিষ্ঠার সঙ্গে।
তবে জীবনের শেষ অধ্যায় ছিল নানা নাটকীয়তা ও সংকটঘেরা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে জামিনে মুক্তি পান তিনি। কিন্তু কারামুক্তির পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের শেষ অধ্যায়ের পর্দা নামে।
এদিকে দবিরুল ইসলামের মৃত্যুতে পরিবারেও নেমে এসেছে গভীর বেদনা। তাঁর ছেলে, ঠাকুরগাঁও-2 আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বাবার শেষ জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে দবিরুল ইসলামকে দাফন করা হতে পারে। এক সময়ের প্রভাবশালী এই রাজনীতিকের বিদায়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে এক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
