পহেলা বৈশাখের রঙিন আবহে প্রাণের উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসার মৃদু ছোঁয়ায় মুখর হয়ে উঠেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে দিনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন, আবেগময় ও স্মৃতিমাখা উৎসবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শান্ত-সবুজ ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের রেশ। লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠা শিক্ষার্থীদের হাসি, শুভেচ্ছা বিনিময় আর প্রাণখোলা আড্ডায় যেন এক অপূর্ব রোমান্টিক আবহ তৈরি হয়—যেখানে বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি আর ভালোবাসা মিশে যায় একসূত্রে।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মন ছুঁয়ে যাওয়া সংগীতানুষ্ঠান। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে সবার হৃদয় কেড়ে নেয় গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী ‘হাড়িভাঙা’ খেলা। চোখে কাপড় বাঁধা, হাতে লাঠি—লক্ষ্যভেদের সেই মুহূর্তগুলো যেন রোমাঞ্চে ভরিয়ে তোলে চারপাশ। প্রতিটি আঘাতে, প্রতিটি ব্যর্থতায় দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর করতালিতে বারবার জেগে ওঠে উৎসবের প্রাণ।
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ খেলাটি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পেরে আয়োজকরা যেমন গর্বিত, তেমনি শিক্ষার্থীরাও পেয়েছেন এক ভিন্ন স্বাদের আনন্দ।
এ প্রসঙ্গে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের আত্মার পরিচয়। নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করাতে এবং ক্যাম্পাসে সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার শাহরিয়ার হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
হাড়িভাঙার উচ্ছ্বাস শেষে আয়োজন ছিল বালিশ খেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতার, যেখানে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আগামীকাল বুধবার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই বর্ণিল আয়োজন।
দিনশেষে বলা যায়—এ যেন শুধু একটি বর্ষবরণ নয়, বরং হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের এক মায়াবী মিলন; যেখানে ঐতিহ্য, তারুণ্য আর আবেগ এক হয়ে লিখেছে নতুন বছরের প্রথম দিনের এক সুন্দর গল্প।
