স্বপ্ন ছিল খাতায়-কলমে লেখা ভবিষ্যৎ, কিন্তু সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে এগিয়ে এসেছিল বিয়ের আয়োজন। তবু হার মানেনি পিরোজপুরের এক সাহসী স্কুলছাত্রী। নিজের জীবন, নিজের সিদ্ধান্ত—এই বিশ্বাসে ভর করেই সে দু’দফা থানায় গিয়ে রুখে দিল নিজের বাল্যবিবাহের আয়োজন।
শুক্রবার কৌশলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে তহমিনা আক্তার। পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে। কিন্তু তহমিনা তখন বই আর স্বপ্নের পাতায় ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত—বিয়ের বন্ধনে নিজেকে জড়াতে মোটেই রাজি ছিলেন না।
থানায় প্রথমবার অভিযোগের পর বাবা মুচলেকা দিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু বাড়ি ফিরতেই আবার শুরু হয় চাপ—কখনও আবেগে, কখনও কঠোরতায় তাকে রাজি করানোর চেষ্টা চলে।
তবে এবারও দমে যায়নি তহমিনা। শনিবার সকালে আবারও থানার পথ ধরে সে—নিজের নিরাপত্তা আর স্বপ্ন বাঁচাতে দ্বিতীয়বার আশ্রয় নেয় পুলিশের কাছে।
থানায় বসেই কাঁপা কণ্ঠে দৃঢ় উচ্চারণে তহমিনা বলেন,
আমাকে যদি আবার বাড়িতে পাঠান, তাহলে জোর করে বিয়ে দেবে। চার দিন পর আমার এসএসসি পরীক্ষা। আমি পরীক্ষা দিতে চাই, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।
এই আকুতি যেন শুধু নিজের জন্য নয়—হাজারো কিশোরীর নীরব প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আবারও মুচলেকা দিয়ে মেয়েকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন বাবা আলম হাওলাদার। এরপর তহমিনাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আলম হাওলাদার বলেন, আমি গরীব মানুষ। ভালো ছেলে পাওয়ায় বিয়ের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু মেয়ে রাজি হয়নি। এখন সবার সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম—উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেব না।
ইন্দুরকানী থানার এসআই সাইদুর রহমান জানান, তহমিনা সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে সে দুইবার থানায় এসেছে। অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
* এই গল্পে প্রেম আছে—তবে কারও সঙ্গে নয়, নিজের স্বপ্নের সঙ্গে।
* এই গল্পে লড়াই আছে—সমাজের চাপে নয়, নিজের ভবিষ্যতের জন্য।
* আর এই গল্পে জয় আছে—একটি মেয়ের, যে শিখিয়েছে— স্বপ্নকে ভালোবাসা মানেই নিজের পাশে দাঁড়ানো।
উল্লেখ্য যে, স্বপ্ন যতই বড় হবে ততই প্রশস্ত। মেয়েটির স্বপ্ন কে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সচেতন মহলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা উচিত।
