দেশের রাজস্ব প্রশাসনের ভেতর থেকে উঠে আসা এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ যেন এখন আলোড়ন তুলেছে সর্বত্র। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বরিশাল-এর যুগ্ম কমিশনার মাজেদুল হককে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ—“বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ”, নারী নির্যাতন, এমনকি পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা। বিষয়টি ঘিরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর ভেতরেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি আর বিস্ময়ের আবহ।
ফেসবুকের প্রেম থেকে অন্ধকার সম্পর্কের গল্পই শুধু নয়।
মামলার এজাহার যেন এক রোমাঞ্চকর কিন্তু শিহরণ জাগানো কাহিনি। ভুক্তভোগী পারুল নাহারের দাবি—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি, বিয়ের স্বপ্ন—সব মিলিয়ে বিশ্বাসের এক নরম জাল।
কিন্তু সেই জালই নাকি পরিণত হয় ভয়ঙ্কর ফাঁদে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, গোপনে ভিডিও ধারণ, পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি—সব মিলিয়ে সম্পর্কটি নেমে আসে এক অন্ধকার অধ্যায়ে।
ভয়, হুমকি আর সহিংসতার ছায়া- এজাহারে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ—মামলা করার পর থেকেই ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের ওপর শুরু হয় চাপ, ভয়ভীতি, এমনকি হামলা।
দিনাজপুরে অস্ত্রসজ্জিত লোকজনের হামলা, পরিবারের সদস্যদের মারধর, অপহরণের চেষ্টা—এসব অভিযোগ যেন ঘটনাকে নিয়ে যায় এক থ্রিলারধর্মী বাস্তবতায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছে—গুম, অপহরণ এমনকি হত্যার ভয় দেখানো হয়েছে।
মামলা, প্রত্যাহার ও রহস্যের ঘনঘটা- ঘটনাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এ মামলা আকারে গড়ায়। পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি আইনের অভিযোগও যুক্ত হয়।
তবে নাটকীয় মোড়—সম্প্রতি মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ভয়ভীতি আর পেশীশক্তির চাপে বাধ্য হয়েই মামলা তুলতে হয়েছে… কিন্তু বিচার চাই।
অভিযোগের জটিল জাল: ক্ষমতা, প্রভাব ও নীরবতা
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের প্রভাব বিস্তার করে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি মিডিয়ায় যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য নানা কৌশল নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি—ফোন বন্ধ, ই-মেইল নীরব।
উল্লেখ্য যে, সত্য কথা চাপা পড়বে, নাকি সামনে আসবে? এই ঘটনাটি এখন শুধুই একটি মামলা নয়—এটি ক্ষমতা বনাম ন্যায়বিচারের এক লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।
ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি কি ছিল শুধুই এক ছলনা?
নাকি অভিযোগের আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো অজানা গল্প? সত্য এখনো আড়ালে…কিন্তু প্রশ্নগুলো ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
