রাজধানীর দক্ষিণগাঁও, নন্দীপাড়া ও নেয়াজবাগ—যেখানে এতদিন কাঁচা রাস্তার ধুলো আর কাদায় আটকে থাকত প্রতিদিনের চলার গল্প, সেখানেই এবার শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) হাতে নিয়েছে অবকাঠামো উন্নয়নের এমন এক উদ্যোগ, যা শুধু রাস্তা নয়—মানুষের জীবনের গতি ও স্বপ্নকেও নতুন রূপ দেবে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) ডিএসসিসির অঞ্চল-৬ এর আওতাধীন এসব এলাকায় উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি।

এই প্রকল্প যেন শহরের প্রান্তিক ভালোবাসার গল্পকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার প্রয়াস। ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে দক্ষিণগাঁওয়ের ৬নং রোডের বাড়ি নং ৩৫/৪/এফ থেকে আশরাফুল হক সুমনের বাড়ি পর্যন্ত নির্মিত হবে ১৬ ফুট প্রশস্ত সড়ক। পাশাপাশি নন্দীপাড়ায় রমজান সাহেবের বাড়ি থেকে বাইতুল আবরার জামে মসজিদ পর্যন্ত এবং নেয়াজবাগের ১৩ নম্বর কাঁচা রাস্তার উন্নয়ন কাজও সম্পন্ন করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের এই যাত্রায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা সবচেয়ে বড় শক্তি। তার কথায় ছিল ভবিষ্যতের প্রতি এক গভীর বিশ্বাস—কিছুটা ত্যাগের বিনিময়ে এই উন্নয়ন একদিন বদলে দেবে জীবনযাত্রার মান, বাড়াবে সম্পত্তির মূল্য, আর এনে দেবে স্বস্তির নতুন ছোঁয়া।

বর্ষার আগমনী বার্তার মাঝেই তিনি সতর্ক করেছেন ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে। ড্রেন ও খালে ময়লা না ফেলা, বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া—এসব ছোট ছোট সচেতনতাই গড়ে তুলতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর। ডিএসসিসি ইতোমধ্যে খাল, ড্রেন ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কারে বড় উদ্যোগ নিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে নদীমুখী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব তার বক্তব্যে বলেন, উন্নয়ন কোনো একক মানুষের জন্য নয়—এটি সকলের জন্য একসাথে এগিয়ে যাওয়ার পথ। তিনি ঢাকা-৯ এলাকার উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন—যেন প্রত্যেকে এই পরিবর্তনের সাক্ষী।

এলাকাবাসীর চোখে এখন নতুন স্বপ্নের ঝিলিক। তাদের বিশ্বাস—এই রাস্তা শুধু পথ নয়, এটি হবে সম্ভাবনার সেতু; যেখানে প্রতিদিনের যাতায়াতের সাথে মিশে থাকবে স্বস্তি, আর জীবনের প্রতিটি মোড়ে ফুটে উঠবে উন্নয়নের নীরব রোমাঞ্চ।
