বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাস্টমস গোয়েন্দা ডিজি নেয়াজুরের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস অনুবিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমানকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেয়াজুর রহমানের স্ত্রী ও সন্তান যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। সেখানে তার তিনটি বাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের অর্থ দেশে না এনে বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্রগুলো জানায়, সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নেয়াজুর রহমান অতীতে মোংলা কাস্টম হাউস ও কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ২০ জুলাই তাকে মোংলা কাস্টম হাউস থেকে ঢাকা উত্তর কমিশনারেটে বদলি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন এবং পণ্য আটকে রেখে ঘুষ আদায়ের চেষ্টা করতেন। চাহিদামতো অর্থ প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে হয়রানির শিকার হতে হতো। এ ধরনের লেনদেনের জন্য তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাঠানো হতো বলে জানা গেছে।

মোংলা কাস্টম হাউসেও তার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কিছু কর্মকর্তা ও সিএন্ডএফ এজেন্ট জড়িত ছিলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় দেশে ও বিদেশে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখানে সম্পদ ক্রয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব সম্পদ ক্রয়ে ঘুষের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্জিত অর্থও বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিলেট ভ্যাট কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে এলসি স্টেশনের মাধ্যমে পণ্য আমদানিতে অনিয়ম, ওজন কারসাজি এবং অতিরিক্ত কর আরোপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একইভাবে মোংলা কাস্টম হাউসে গাড়ি ও কসমেটিকস আমদানিতে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

নেয়াজুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দেশত্যাগের চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে, তবে তা সফল হয়নি।

২০১৬ সালে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি লাভের সময়ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ২০০৩ সালে সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চলবে……..

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।