বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদযাত্রায় চাঁদাবাজির আতঙ্ক, ময়মনসিংহে ডিবির অভিযানে গ্রেফতার ৪, নেপথ্যের ‘গডফাদার’ কারা?

মামুনুর রশীদ মামুন
মে ২৭, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন লাখো মানুষ প্রিয়জনের কাছে ফিরতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগকে পুঁজি করে ময়মনসিংহে প্রকাশ্যে চলছিল চাঁদাবাজি। পরিবহন থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় এবার সামনে এসেছে সড়কপথে সক্রিয় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের ভয়ংকর বাস্তবতা। আর এ ঘটনাকে ঘিরে জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—মাঠের কর্মীরা ধরা পড়লেও নেপথ্যের প্রভাবশালী গডফাদাররা কারা?

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নির্দেশনায় ঈদযাত্রা নিরাপদ, যানজটমুক্ত ও নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।

এরই অংশ হিসেবে গত ২৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহের পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন থেকে অসাধুভাবে টাকা উত্তোলনের অভিযোগে হাতেনাতে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—

১. মো. ফরিদ মিয়া (২১)

২. মো. রুবেল

৩. মোহাম্মদ মোজাম্মেল (৩৫)

৪. মো. ইসমাইল (২১)

পুলিশের দাবি, ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যানবাহনের চাপ ও যাত্রীদের ভোগান্তিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিবহন থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করছিল। ডিবির তাৎক্ষণিক অভিযানে অন্তত ওই চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

তবে এই ঘটনার পর স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্ট মহল, সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন স্বাধীনচেতা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—শুধু মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজদের ধরলেই কি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে?

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সড়কে চাঁদা আদায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সংঘবদ্ধভাবে চলছে এ অপকর্ম। অনেক ক্ষেত্রে লাইন ম্যানেজমেন্ট, টার্মিনাল খরচ, কিংবা “শ্রমিক ফান্ড”-এর মতো নানা নামে পরিবহন থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যারা সড়কে দাঁড়িয়ে টাকা তোলে তারা অনেক সময়ই কেবল নিচুতলার কর্মী বা হুকুমের গোলাম। কিন্তু তাদের পেছনে কারা রয়েছে, কার নির্দেশে টাকা তোলা হয় এবং সেই অর্থ কোথায় যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর অধিকাংশ সময়ই আড়ালেই থেকে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসন যদি রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির ও অদৃশ্য চাপমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে পারে, তাহলে শুধু চুনোপুঁটি নয়—এই চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতা, অর্থদাতা ও গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

সচেতন মহলের অভিমত, দেশের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পরিবহন খাতকে কেন্দ্র করে যে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে হলে প্রয়োজন কঠোর, পরিকল্পিত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। শুধুমাত্র কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে দুই-চারজনকে গ্রেফতার করলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে না; বরং কিছুদিন পর নতুন পরিচয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে একই চক্র।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপকর্মে জড়ানোর আগে অন্তত “দশবার ভাববে”। কারণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং নেপথ্যের শক্তিশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণই পারে সড়কে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।

এদিকে ডিবি পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, ঈদযাত্রায় মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হোক। একইসঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয়ও প্রকাশ করা জরুরি।

কারণ জনমনে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—সড়কে দাঁড়িয়ে যারা টাকা তুলছিল তারা অপরাধী ঠিকই, কিন্তু যাদের ছত্রচ্ছায়ায় এবং যাদের স্বার্থে এই চাঁদাবাজি চলছিল, সেই অদৃশ্য গডফাদাররা আসলে কারা?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।