ফাইল ছবি
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) উপজেলার ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের বটতলা হিন্দুবারি এলাকায় পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা শাশুড়িকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা, ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার এক বিবাহিত নারী, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘শ্যামলের বউ’ নামে পরিচিত, তার সঙ্গে কামাল পঞ্চায়েত নামে এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল। এর আগেও ওই নারীকে ঘিরে একাধিক বিতর্কের জন্ম হয়েছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ মে ২০২৬ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই নারী ও তার কথিত প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েতকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন বৃদ্ধা শাশুড়ি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা। একপর্যায়ে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো, হত্যার সময় নিহতের তিন মেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কথিত প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েতকে দেখতে পান বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উপস্থিত লোকজনের টের পেয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন কামাল। এ সময় তাড়াহুড়োয় ঘটনাস্থলেই তার একটি জুতা পড়ে থাকে, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগে একই নারীকে কেন্দ্র করে একাধিক পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আলামত সংগ্রহসহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে এই নৃশংস হত্যার ঘটনায় বটতলা হিন্দুবারি এলাকাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়।
