খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। ছবি-সংগৃহীত
দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এ হঠাৎ করেই নেমে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন, যা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। শুধু তিনি নন, একই দিনে কমিশনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন-ও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র তাদের পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সকালে পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর পর চেয়ারম্যান আর অফিসে যাননি।
এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) সূত্রে জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। এমনকি আজ বিকেলের মধ্যেই নতুন নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম দায়িত্ব ছাড়েন। পরে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সময়ে বর্তমান কমিশনাররাও দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে গত কয়েক মাস ধরেই বিএসইসির ভেতরে ও বাইরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল। সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি অংশও মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল।
সেই দীর্ঘদিনের চাপ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের একযোগে পদত্যাগ এখন দেশের পুঁজিবাজারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না, সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নতুন নেতৃত্ব কারা আসছেন এবং তারা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হবেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিনিয়োগকারী, বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
