সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ পরিবহনের চেষ্টার অভিযোগে পটুয়াখালীতে গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর অভিযান চালিয়েছে কোস্ট গার্ড। অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে আনুমানিক ৪৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ ও জাটকা জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে এ বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ করা হয়।
দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা, প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিনের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে। মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য এই সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার মাঝেও অসাধু চক্রের একটি অংশ অবৈধভাবে মাছ আহরণ ও পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামুদ্রিক মাছ পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী টোল প্লাজা এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৫ হাজার ১০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ এবং ২ হাজার কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে বাসটির চালক ও হেল্পারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
জব্দকৃত মাছগুলো পরবর্তীতে পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফলে অবৈধভাবে পরিবহনের উদ্দেশ্যে আনা মাছ শেষ পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এবং সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শতভাগ কার্যকর করতে নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
