ফাইল ছবি
দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে ঘিরে ফের নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির বর্তমান পরিচালনা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য বোর্ড পুনর্গঠন নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। সংগঠনটির অভিযোগ, বিতর্কিত গোষ্ঠীর প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা ব্যাংক, আমানতকারী ও দেশের আর্থিক খাতের জন্য নতুন সংকট ডেকে আনতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে ফোরামটি দাবি করেছে, ২০১৭ সালে জোরপূর্বক মালিকানা পরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন অনিয়ম, বেনামি ঋণ ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেছে। তবে গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যায় এবং আমানতকারীদের আস্থাও ধীরে ধীরে ফিরে আসতে শুরু করে।
কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে দাবি সংগঠনটির। তাদের অভিযোগ, বিতর্কিত গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের একটি ‘গভীর চক্রান্ত’ চলছে।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবি
বিবৃতিতে ফোরামটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে যোগ্য, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
২০১৭ সালের মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার পুনর্বহাল।
ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ক্ষতি পূরণ।
ব্যাংক খাতে অস্থিতিশীলতা ও অপপ্রচার বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংক পরিচালনায় আসার পথ বন্ধ করা।
বিতর্কিত বক্তব্য ও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো গোপন প্রচেষ্টা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
ফোরামটি আরও বলেছে, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বিশেষ পরিবারের সম্পদ নয়; এটি কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যাংকের সুশাসন, আমানতের নিরাপত্তা ও স্বাধীন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক নূর নবী মালিক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে আমানতকারীরা নিজেদের অধিকার ও আমানতের নিরাপত্তা রক্ষায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
