শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অনলাইন জুয়ার কোটি টাকার নেটওয়ার্কে ডিবির বড় অভিযান: ৬,৬০০ এমএফএস অ্যাকাউন্টের সিম জব্দ, মূল সমন্বয়কারীসহ গ্রেপ্তার ৬

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ১৬, ২০২৬ ১১:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন পরিচালনাকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে চক্রটির মূল সমন্বয়কারীসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংশ্লিষ্ট সিম, বিভিন্ন অপারেটরের ৬৭টি সিম, ৭০টিরও বেশি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন— আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) এবং মশিউর রহমান তারেক (২০)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

চীনা চক্রের নিয়ন্ত্রণে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, গু পে, পে কাশমা, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্সই পে ও কোল পেসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপে অর্থ লেনদেন পরিচালিত হয়। ডিবির দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে লেনদেন নির্বিঘ্ন করতে তারা স্থানীয়দের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে। তবে অধিকাংশ লেনদেনই সম্পন্ন হয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।

এমএফএস থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি, এরপর বিদেশে অর্থ পাচার

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জুয়ার অর্থ প্রথমে এমএফএস এজেন্ট অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে তা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে ইউএসডিটি (USDT)-তে রূপান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে বিদেশে পাচার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০০টি অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট কোম্পানি সক্রিয়। এর মধ্যে গ্রেপ্তারদের নিয়োগকারী ‘গু পে’ প্রতিদিন পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করে। আর দেশে এমএফএসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার দৈনিক লেনদেন এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে দাবি করেছে ডিবি।

রিফাতই বাংলাদেশ অংশের মূল সমন্বয়কারী

ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম রিফাত বাংলাদেশে এই চক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ‘নাথান’ ওরফে ‘অ্যালিন’ (ছদ্মনাম) নামে এক চীনা নাগরিকের নির্দেশনায় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তদন্তে জানা গেছে, চীনা চক্রটি আগে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও বর্তমানে চীন থেকেই পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে।

কমিশনভিত্তিক বিশাল অর্থের ভাগাভাগি

রিফাতের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেত এই চক্র। অর্থের বড় অংশ এমএফএস এজেন্ট, ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও), সুপারভাইজার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি হতো। এছাড়া তাদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ও বহন করত বিদেশি পেমেন্ট কোম্পানিগুলো।

বিএমডব্লিউসহ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখছে ডিবি

ডিবি জানিয়েছে, সম্প্রতি ৩০০ ফিট এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়া বিএমডব্লিউ গাড়িটি গ্রেপ্তার রিফাতের। তার নামে আরও একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধে ব্যবহৃত সম্পদ জব্দে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

জুলাই আন্দোলনের ৫৯ মামলার তদন্তেও ডিবি

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলার তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের প্রায় ৪০ জিবি ডেটা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ এবং আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে। প্রতিটি তথ্য ও আলামত যাচাই-বাছাই করেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।