শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৌলভীবাজার সওজে স্বচ্ছতার বদলে অন্ধকার! নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ, তথ্য গোপন ও ভুয়া বিলের অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
জুলাই ১৭, ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্যপ্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভাগটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, তথ্য গোপন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঝোপঝাড় পরিষ্কার ঘিরে প্রশ্নের মুখে বরাদ্দের হিসাব

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী এ ধরনের কাজের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার কথা।

কাজটির জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আরে মিয়া যান, আপনারা আমাকে বিরক্ত করছেন কেন। পরে তিনি দাবি করেন, এই কাজের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই এবং এটি নাকি তাদের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।

তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি সরকারি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কীভাবে সরকারি সড়কে “নিজস্ব উদ্যোগে” শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ পরিচালনা করেন? এই বক্তব্যের আড়ালে প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য গোপনের চেষ্টা রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতি বছর বরাদ্দ, কিন্তু কাজ কোথায়?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরই সড়কের পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ থাকে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখা যায় না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ বাস্তব কাজে ব্যয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। যদিও সওজ কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা সরাসরি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা শহর পরিচ্ছন্নতার কোনো স্থায়ী প্রকল্প পরিচালনা করে না; বরং পরিচ্ছন্নতা-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন

সরকারি তথ্য জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, সরকারি তথ্য সম্পর্কে জবাব না দেওয়া এবং প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী।

‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হরিলুট’—স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী যোগদানের পর থেকে মৌলভীবাজার সওজ বিভাগে ব্যাপক অনিয়ম বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের অর্থ অপচয় ও অনিয়ম করা হচ্ছে। বিশেষ করে জুন মাসে অধিকাংশ আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।

বক্তব্য দিতে রাজি হননি নির্বাহী প্রকৌশলী

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি

স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলের দাবি, বিগত কয়েক বছরে ঝোপঝাড় পরিষ্কারসহ সওজ বিভাগের সব উন্নয়নমূলক কাজের আর্থিক হিসাব নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, তথ্য অধিকার আইন, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা, দণ্ডবিধি এবং সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
সারাবাংলা সর্বশেষ