বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনীতে ১,০৬৭ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ, সম্ভাবনাময় উৎপাদনে কৃষকদের আশার আলো, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর পরামর্শের দাবি

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি: সমতল মাতৃভূমি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬৭ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা ব্যাপকভাবে এ পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনাও দেখছেন চাষিরা। তবে উৎপাদনের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, কারিগরি সহায়তা ও সময়োপযোগী পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কার্যকর পরামর্শের ঘাটতি থাকায় অনেক সময় চাষাবাদের বিভিন্ন পর্যায়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। বিশেষ করে সার ও কীটনাশক কেনাবেচায় অনিয়ম, প্রতারণা এবং নির্ধারিত মূল্যে মানসম্মত কৃষি উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে উপস্থিত থেকে তদারকি করলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসত বলে মনে করছেন তাঁরা।

স্থানীয় সাহারবটী গ্রামের এক কৃষক জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কৃষি বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান রয়েছে। কিন্তু সাধারণ কৃষকদের পক্ষে সব সময় ফসলের রোগবালাই, মাটির অবস্থা, সার প্রয়োগ কিংবা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির খুঁটিনাটি বিষয় সঠিকভাবে বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। এ কারণে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে এসে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো পরামর্শ দিলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব।

চাষিরা জানান, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত উদ্যোগ, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে এ আবাদ আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ পেঁয়াজের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

তাঁদের মতে, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি কৃষকরা উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্যমূল্য পেলে তাঁদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

এ অবস্থায় গাংনীতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের কাছে গিয়ে জমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই দমন, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে পরামর্শ দেবেন।

কৃষকদের মতে, শুধু আবাদ বাড়ানোই নয়, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে পারলে গাংনীর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।