খুলনায় চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জন সন্ত্রাসী নূর আজিমের সহযোগী
খুলনায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও কোচিং সেন্টারে চাঁদাবাজির ঘটনায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিমের ৬ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সুবজ শেখ নামের এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, নূর আজিম বাহিনীর বিশ্বজিৎ হাওলদার ওরফে ঝন্টু হাওলাদার, তাসিন ওরফে কাজল, জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও রব্বানী, সাইফুল ইসলাম ও রাসেল শেখ।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির বিভিন্ন ঘটনার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে তাদের ছবি পাওয়া গেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সবুজ শেখ পেশায় রিকশাচালক। তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে মোটা অংকের টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, চাঁদার দাবিতে গত এক মাসে খুলনার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ ৭ নভেম্বর নগরীর পিটিআই মোড়ের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে পুলিশ। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাচের দরজা, জানালা, এসি, টিভিসহ সামনে যা পেয়েছেন তা কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করে সবার সামনে দিয়ে বের হয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তিন তলা ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন জানায়, প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিম ও তার ‘বাহিনীর’ সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পেয়ে এবং ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হয়। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। গত ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮-১০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়। যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে ‘চাইনিজ প্যালেস’ রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর চালানো হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকেন। মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন কল রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবকরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।
