সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন। ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, নির্বাচনে যেকোনো অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে এবং অভিযোগ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হবে।
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
২৯৯ আসনে লড়াইয়ে ২,০২৮ প্রার্থী।
সিইসি জানান, জাতীয় সংসদ ৩৫০ সদস্যবিশিষ্ট—এর মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসনে সরাসরি ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর।
আসন্ন নির্বাচনে ২৯৯টি নির্বাচনী এলাকায় ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভোটার বেড়েছে ৪৫ লাখ, মোট ভোটার ১২.৭ কোটির বেশি। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭ মিলিয়নের বেশি। তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানান সিইসি।
প্রথমবার প্রযুক্তি-সমর্থিত ডাক ব্যালট, নিবন্ধন ৮ লাখ প্রবাসীর
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি-সমর্থিত ডাক ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সীমিত প্রস্তুতির মধ্যেই প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী সীমিত প্রস্তুতির মধ্যেই প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন বলে কমিশন জানায়। দেশে অবস্থানরত যোগ্য ভোটারদের জন্যও ডাক ব্যালটের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ একদিনে, কেন্দ্রেই গণনা করা হবে, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে একদিনে—সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত । ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসাররা ভোটগ্রহণ ও গণনার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রেই গণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করবেন।
নজরদারিতে দেশ-বিদেশের ৪৫ দেশ, পর্যবেক্ষক ৩৩০
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান সিইসি। এ নির্বাচনে ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ২২০ জন রয়েছেন।
এছাড়া ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং দেশীয়ভাবে ৮১টি সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন। পূর্ণ নিরাপত্তা, আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তি-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান নাসির উদ্দিন। যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
শেষে তিনি আরও বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদার ভূমিকা এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক আস্থা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
