বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাম্প্রতিক বদলি নামের আড়াল : দুর্নীতির বিরুদ্ধে শাস্তি, নাকি প্রাতিষ্ঠানিক প্রহসন? নেপথ্যে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রশাসনে গুঞ্জন ছড়ায়। তারপর একদিন হঠাৎ আদেশ—“অমুক কর্মকর্তাকে বদলি করা হলো।
ফাইল বন্ধ। আলোচনার ইতি। দায়মুক্তির সূচনা।
রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, কমিশন বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও যদি চূড়ান্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপ হয় শুধু বদলি—তবে সেটি শাস্তি নয়; বরং দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখার এক নীরব কাঠামো—এমনই মত প্রশাসন বিশ্লেষকদের।
অভিযোগের পর বদলি : তদন্তের আগেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ অনুসন্ধানে একাধিক দপ্তরের নথি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মিলেছে একই চিত্র— অভিযোগ উঠলেই দ্রুত বদলি।
কিন্তু বদলির পর—
*বিভাগীয় মামলা ঝুলে যায়
*তদন্ত কমিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে
*সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহ থেমে যায়
*অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রশাসনিক চাপ থেকে মুক্ত থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন— বদলি মানে অনেক সময় প্রমাণের চেইন ভেঙে দেওয়া। নতুন জায়গায় গেলে আগের অভিযোগের ফাইল স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়ে। পোস্টিং ইকোনমি’ বদলিই যখন পুরস্কার- মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ বাস্তবতা— সব বদলি শাস্তিমূলক নয়, কিছু বদলি আবার ‘লাভজনক পোস্টিং’-এর পথ খুলে দেয়।
অর্থাৎ—
* প্রভাবশালী কর্মকর্তা অভিযোগের পরও সুবিধাজনক জায়গায় যান।
* টেন্ডার ও প্রকল্পনির্ভর দপ্তরেই ঘুরপাক খান।
* সিন্ডিকেট অপরিবর্তিত থাকে, বদলায় শুধু অফিসের নামফলক।
একজন প্রকৌশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হয়ে কেউ যদি আরও ‘ভালো’ পোস্টিং পায়, তাহলে সেটি শাস্তি নয়—সরাসরি পুরস্কার। বদলি–বাণিজ্যের অভিযোগ : অদৃশ্য অর্থের প্রবাহ
অনুসন্ধানে বারবার উঠে এসেছে বদলি–প্রক্রিয়াকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ। প্রশাসনের ভেতরে একটি অঘোষিত ‘পোস্টিং মার্কেট’ রয়েছে—এমন ধারণা অনেক কর্মকর্তার।
অভিযোগ অনুযায়ী— প্রভাবশালী পোস্টিং পেতে লবিং, বদলি ঠেকাতে মধ্যস্বত্বভোগীর সক্রিয়তা, আদেশ স্থগিত বা পরিবর্তনে গোপন যোগাযোগ।
তবে এসব অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ, তবুও প্রশাসনের ভেতরের এই গুঞ্জনই বদলিকে শাস্তির বদলে ‘লেনদেনযোগ্য প্রক্রিয়া’ হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আইনের বিধান বনাম বাস্তবতা : কেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই?
সরকারি চাকরি বিধিমালায় দুর্নীতির শাস্তি স্পষ্ট—
* সাময়িক বরখাস্ত
* বিভাগীয় মামলা
* পদাবনতি
* চাকরিচ্যুতি
* ফৌজদারি মামলা
কিন্তু বাস্তবে এসবের প্রয়োগ সীমিত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক গুরুতর অভিযোগই বদলির পর আর আইনি পর্যায়ে এগোয় না। এতে প্রশাসনের ভেতরে তৈরি হয় এক ধরনের অঘোষিত দায়মুক্তি সংস্কৃতি।
ভেতরের ক্ষোভ : “সততা এখন প্রশাসনে ঝুঁকিপূর্ণ”
নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই সংস্কৃতি গভীর হতাশা তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য— দুর্নীতি করলে বদলি, আর প্রতিবাদ করলে হয়রানি—এটা হলে সততার জায়গা কোথায়?
বিশ্লেষকদের মতে, এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের দক্ষতা, নৈতিকতা এবং জনআস্থা—সবকিছুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কাঠামোগত দুর্বলতা : বদলি দিয়ে দুর্নীতি থামে না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বদলি কেবল ব্যক্তিকে সরায়; কিন্তু দুর্নীতির নেটওয়ার্ক অক্ষত রাখে।
ফলে—
🔹 একই সিন্ডিকেট নতুন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে
🔹 পুরোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তারা দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন
🔹 তদন্তহীন অভিযোগ ভবিষ্যতে আরও বড় অনিয়মের পথ তৈরি করে।

উল্লেখ্য যে, বদলির সংস্কৃতি ভাঙা এখন রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কাগজে–কলমে নয়, বাস্তবে প্রমাণিত হয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে।
যদি অভিযোগের শেষ পরিণতি বদলি হয়, তবে সেটি শাস্তি নয়—বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক।
রাষ্ট্রের সামনে তাই কঠিন প্রশ্ন— দুর্নীতির অভিযোগ কি শুধু অফিস বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বদলির আড়াল ভেঙে প্রকৃত জবাবদিহির যুগ শুরু হবে? এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে নেটিজেনরা।
এসব বিষয়ে পাবনা গণপূর্ত কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুল এর কাছে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এজন্য তার বক্তব্য প্রকাশ করা যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ