ঢাকার আকাশে যেন এক অদৃশ্য ধোঁয়াশা—আর সেই ধোঁয়াশার কেন্দ্রে ঘুরপাক খাচ্ছে এক নাম, সমীরণ মিস্ত্রী। গণপূর্ত অধিদপ্তরের করিডোরে ফিসফাস, অভিযোগ আর গুঞ্জনের ঢেউ—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক রহস্যময় নাটকের মঞ্চ, যেখানে চরিত্রগুলো দৃশ্যমান, কিন্তু সত্য রয়ে গেছে আড়ালে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই ভেবেছিলেন বদলে যাবে দৃশ্যপট, থামবে সিন্ডিকেটের দাপট। কিন্তু বাস্তবতা যেন উল্টো গল্প বলে—ঢাকা ছাড়েন না প্রভাবশালী প্রকৌশলীরা, বদলীর নামেই চলে অবস্থান পাকাপোক্ত করার খেলা।
অভিযোগের তীর সরাসরি গিয়ে লাগে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ এক বলয়ের দিকে, যেখানে সমীরণ মিস্ত্রী যেন এক অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। টেন্ডার, পোস্টিং—সবকিছুতেই তার ছায়া। কে কোথায় বসবেন, কার ভাগ্যে কোন পদ—সব যেন নির্ধারিত হয় তার অদৃশ্য ইশারায়।
শেরেবাংলা নগরের দায়িত্বে থাকা সময় মেরামতের নামে প্রায় ৮০ কোটি টাকার খরচ—কিন্তু কাজের চিহ্ন কোথায়? অভিযোগ বলছে, বিল-ভাউচারের মোটা অঙ্কের টাকা গিয়েছে বিশ্বস্ত ঠিকাদারদের পকেটে। সংসদ সচিবালয়ের কাজেও একই গল্প—অভিযোগের ভার যেন পাহাড়সম, অথচ অবস্থান অটুট!
এরই মাঝে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুঞ্জন, যা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা পেরিয়ে। অফিসের ভেতরের সেই ‘গোপন অধ্যায়’ যেন নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে বিতর্কে। কিন্তু সমীরণের নীরবতা—সেটা কি কৌশল, নাকি স্বীকারোক্তির নীরব ভাষা?
বদলীর আড়ালে কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগও কম চাঞ্চল্যকর নয়। ভেতরের সূত্র বলছে, পেইড পোস্টিং’-এর বাজারে সমীরণের নামই শীর্ষে—যেখানে পদ মানেই মূল্য, আর সেই মূল্য কয়েক কোটি টাকা!
অন্যদিকে, নতুন প্রধান প্রকৌশলীর আগমনে আশার আলো জ্বললেও মূল অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও মূল চক্র যেন অক্ষতই রয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন একটাই— এই নীরব সাম্রাজ্যের পতন কবে? নাকি ঢাকার আকাশে এই দুর্নীতির ধোঁয়াশা আরও ঘনই হবে? তবে এ নিরসনের প্রত্যাশা প্রধান কৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী কে ঘিরে প্রত্যাশা পূরণে স্বপ্ন দেখছেন নেটিজেনরা।
চলমান অনুসন্ধান নিয়ে বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রকাশিত সংখ্যায়।
