রাজনীতির রঙ যেমন বদলায় ঋতুর মতো, তেমনি কিছু মানুষও বদলে ফেলেন নিজেদের পরিচয়—স্বার্থের নরম আলোয়। ঠিক তেমনই এক চাঞ্চল্যকর গল্প এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাস থেকে ক্যাম্পাসে, চায়ের কাপে ঝড় তুলে দিচ্ছে এক শিক্ষিকার নাম—ফাতেমা ম্যাডাম।
এক সময়ের প্রভাবশালী ছায়ার নিচে, সাবেক ভিসির আমলে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার সুপারিশে নিয়োগ পান তিনি। যেন এক অদৃশ্য হাত তাকে তুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে। তারপর আসে স্বপ্নের ডানা—‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ’। মালয়েশিয়ার পথে যাত্রা, পিএইচডির স্বপ্ন, আর পেছনে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ—রাষ্ট্রের বিশ্বাস আর ভবিষ্যতের আশায়।
কিন্তু গল্পটা যেন হঠাৎ করেই মোড় নেয় অন্যদিকে…
অপূর্ণ থেকে যায় সেই পিএইচডির অধ্যায়। মাঝপথেই ফিরে আসেন তিনি, যেন অসমাপ্ত কোনো প্রেমকাহিনী। অথচ রাষ্ট্রের দেওয়া সেই ৬০ লাখ টাকা—যা ছিল জ্ঞান অর্জনের বিনিময়ে—এখন তা ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে নীরবতা, এড়িয়ে যাওয়া, আর রহস্যময় কৌশল।
শোনা যাচ্ছে, দায় এড়াতে তিনি এখন খুঁজছেন নতুন আশ্রয়। ক্ষমতার পালাবদলের হাওয়ায় নিজেকেও বদলে নিচ্ছেন—একসময় যে ছিলেন একটি দলের ছায়ায়, এখন নাকি অন্য দলের নাম ব্যবহার করে তৈরি করছেন নতুন পরিচয়। ‘জিয়া পরিষদ’ গঠনের চেষ্টা, আহ্বায়ক হওয়ার ইচ্ছা—সবই যেন এক নতুন নাটকের প্রস্তুতি।
তবে এখানেই শেষ নয়। আরও বিস্ময়কর হলো—একসময় তিনি ছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’-এর সদস্য ফর্ম বিক্রির সঙ্গেও যুক্ত। অর্থাৎ, ক্ষমতার পালা বদলালেই বদলে যায় তার অবস্থান, তার রঙ, তার গল্প এবং অবস্থান। এখন তার অদৃশ্য শেল্টার দাতা কে এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে নেটিজেনরা।
প্রশ্নগুলো তাই ঘুরপাক খাচ্ছে— আদর্শ কি তবে কেবলই সুযোগের অলংকার? ৬০ লাখ টাকার দায় কি রাজনীতির ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে? একটি দলের পরিচয় কি এতটাই সহজে বদলে ফেলা যায়?
বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে, রাজনৈতিক অঙ্গনে, আর সচেতন মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— এই গল্পের শেষ কোথায়? প্রেম, প্রভাব, নাকি প্রতারণার এক নতুন অধ্যায়ে?
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ফাতেমা খাতুন এর মুঠোফোনে কল করা হলে দায়সারা ভাবে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তী সময়ে ফোন বন্ধ করে রাখেন। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি। ফোন নং বন্ধ রাখা মানে কি দোষ স্বীকার করা। নীরবতা কি দায়মুক্তি?
উল্লেখ্য নীরবতার আড়ালে কি চাপা পড়বে সত্য?
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া। যেখানে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেবেন আর সে জ্ঞান নিয়ে প্রতারণা। তবে কেবল একটি নিছক র্ঘটনা নয়—এটি একটি কৌশলী নিছক মনোভাব। যেখানে জবাবদিহি নেই, সেখানে ব্যর্থতা বারবার ফিরে আসে। এখন দেখার বিষয়—এই নীরবতার দেয়াল ভেঙে কবে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে, নাকি আবারও সব চাপা পড়বে প্রভাব আর প্রমোদের অন্ধকারে। এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে নেটিজেনরা।
