সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তার চোর’ আনোয়ার! যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডের আড়ালে কোটি টাকার কারসাজি, সংসদে শব্দ বিভ্রাটে ফাঁস হলো অন্ধকার রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্চ ৩০, ২০২৬ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় সংসদের পবিত্র অধিবেশন—যেখানে প্রতিটি শব্দ রাষ্ট্রের ইতিহাস হয়ে ওঠে—সেই মঞ্চেই নেমে এলো এক অদৃশ্য নীরবতা। ১২ মার্চ ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য শুরু করতেই থমকে যায় সব—মাইক নিস্তব্ধ, শব্দ হারিয়ে যায় শূন্যতায়। একবার নয়, বারবার চেষ্টা—তবুও ব্যর্থতা। অবশেষে বাধ্য হয়ে হাতে তুলে নিতে হয় হ্যান্ডমাইক।

স্পিকারের কণ্ঠে তখন হতাশার ছোঁয়া— যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে কথাবার্তা ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে না। সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। অবশেষে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি হয় অধিবেশন। কিন্তু এই সাময়িক বিরতি যেন খুলে দেয় এক গভীর অন্ধকারের দরজা—যেখানে লুকিয়ে আছে কোটি টাকার অনিয়ম, গোপন আঁতাত আর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্ময়কর কাহিনি।

কোটি টাকার প্রকল্প, কিন্তু কোথায় সেই শব্দের স্বচ্ছতা?
সংসদ ভবনের সাউন্ড, আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রথমে ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব এলেও শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ হয় ১২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ লারস ভিডেক্যাম স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলেন—পুরো সিস্টেম বদল না করে শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই চলবে। কিন্তু সেই পরামর্শ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষিত। বরং নতুন করে বসানো হয় হেডফোন ও গুজনেক মাইক্রোফোন—যার পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।

উল্লেখ যে, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার আমানত এন্টার প্রাইসের মালিক দুলালের ব্যবসায়ী পার্টনার ছিলেন ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার অর্ধেক টাকা লাভ নিয়ে সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম কাজ করেছেন তবে লাভের একটি বড় অংশ অতিরিক্ত প্রদান প্রকৌশলী আশরাফুল ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানকে মোটা অংকের কমিশন দিয়ে তার ব্যবসায়ী অংশীদারিত্বের কথা গোপন রেখেছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে। আবার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফরহাদুজ্জামান আজাদ ইএম কারখানা বিভাগের এইচডি ও রুবায়েদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী ন্যামভবনে ইজিপির আগে কাজ শুরু করেছিল। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন একই ঠিকাদারকে বারবার কাজ দিয়েছেন এর মধ্যেও শাহ আমানাত এন্টারপ্রাইজের মালিক দুলালের নাম উঠে এসেছে। তাঁর সাথে ব্যবসায়ী পার্টনার হিসেবে সখ্যতা করেছিলেন যা সঠিক তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

কোটি টাকার প্রকল্প, কিন্তু কোথায় সেই শব্দের স্বচ্ছতা?
সংসদ ভবনের সাউন্ড, আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রথমে ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব এলেও শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ হয় ১২ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ লারস ভিডেক্যাম স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছিলেন—পুরো সিস্টেম বদল না করে শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই চলবে। কিন্তু সেই পরামর্শ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষিত। বরং নতুন করে বসানো হয় হেডফোন ও গুজনেক মাইক্রোফোন—যার পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।

ব্র্যান্ডের আড়ালে লুকানো কারসাজি- গণমাধ্যমে প্রচার—যুক্তরাষ্ট্রের নামী ব্র্যান্ড ‘শিওর’-এর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন—
শুধু ব্র্যান্ড থাকলেই কি মান নিশ্চিত হয়? নাকি সেটিই ছিল চোখ ধাঁধানো এক মুখোশ? কিন্তু তদন্তে উঠে আসছে ভয়াবহ অভিযোগ— এই জটিল সাউন্ড সিস্টেমের প্রাণ হলো তার (কেবল)। অথচ সেই তারেই নাকি ঘটেছে সবচেয়ে বড়‘চুরি’।

‘তার চোর’তত্ত্ব—নেপথ্যের বিস্ফোরক অভিযোগ-বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদের মতো উচ্চমানের সিস্টেমে দরকার উন্নতমানের XLR, TRS, Speakon কেবল—যেখানে থাকতে হয় অক্সিজেন-ফ্রি কপার, নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ, কোনো জোড়া নয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে— নিম্নমানের কেবল ব্যবহার, তারে জোড়া লাগানো, কোনো পরীক্ষিত মানদণ্ড (BUET রিপোর্ট) নেই। এ যেন শব্দ ব্যবস্থার হৃদয়ে বিষ ঢেলে দেওয়া। ফলাফল—সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নীরবতার লজ্জা।

তার চোর আনোয়ার

এদিকে ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও কমিশনের গোপন খেলা
অভিযোগের তীর গিয়ে ঠেকছে একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার দিকে— নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক—এবং তাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
🔸 সরাসরি ক্রয় (ডিপিএম) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া
🔸 প্রতিযোগিতা বন্ধ করে পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন
🔸 কোটি টাকার কাজের ভাগ-বাটোয়ারা

অভিযোগ আরও ভয়াবহ— ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার কাজের বড় অংশ নাকি ভাগ হয়েছে কমিশনে,ঈদের আগে দুই কোটি টাকা দিয়ে মিডিয়া ‘ম্যানেজ’করার গুঞ্জন।

আবার পুরনো ইতিহাস,নতুন কেলেঙ্কারি-এটাই প্রথম নয়। অতীতে একই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত, এমনকি শাস্তিমূলক বদলিও হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির জোরে তারা বারবার ফিরে এসেছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে।

শেষ দিকে একটি কথা : নীরবতারও একটি ভাষা আছে সংসদের সেই নিস্তব্ধ মাইক যেন আজও প্রশ্ন ছুড়ে দেয়-এটা কি শুধু যান্ত্রিক ত্রুটি? নাকি সুপরিকল্পিত দুর্নীতির নিঃশব্দ বিস্ফোরণ? জনগণের করের টাকায় নির্মিত এই ব্যবস্থার ভাঙন শুধু প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়—এটি আস্থার ভাঙন,স্বচ্ছতার সংকট।

এখন প্রয়োজন— একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম তদন্ত। আর সেই তদন্তেই বেরিয়ে আসুক— শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সব নীরব সত্য। জনগণের মনে স্বস্তি ফিরে আসুক গণপূর্তে আস্থা ফিরে আসুক। দেখবেন নেটিজেনরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।