বন্ধুর বোনজামাইয়ের জানাজা নামাজে অংশ নিতে বেরিয়েছিলেন দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—সেই জানাজায় আর পৌঁছানো হলো না মিজানুর রহমান মিজুর (৩৫)। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার প্রাণ। আর তারই পাশে থাকা শৈশবের বন্ধু সাগর মৃধা (৩৪) এখন ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উত্তর চরখালী এলাকায় ঘটে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা।
নিহত মিজানুর রহমান মিজু পটুয়াখালী শহরের সিঅ্যান্ডবি রোড এলাকার মোঃ রফিক হাওলাদারের ছেলে। গুরুতর আহত সাগর মৃধা একই এলাকার আবদুস লতিফ মৃধার ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তারা শুধু ঠিকাদারই নন, ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, হাসিখুশি ও বন্ধুবৎসল দুই তরুণ হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সাগর মৃধার বোনজামাই মোঃ হাবিবুর রহমানের জানাজায় অংশ নিতে মোটরসাইকেলে করে পটুয়াখালী শহর থেকে গলাচিপার চরখালী গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন দুই বন্ধু। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা।
পথিমধ্যে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উত্তর চরখালী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালামালবাহী লরির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রচণ্ড ধাক্কায় সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকেন মিজু ও সাগর।
স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত মিজুর ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার জানান, বরিশালে নেওয়ার পথেই মিজুর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা দ্রুত বরিশাল পাঠানোর পরামর্শ দেন। অবশেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিজু।
এদিকে আহত সাগর মৃধার অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সাগরের ছোট ভাই ফয়সাল জানান, “ভাইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। রাত ১টার দিকে আমরা গৌরনদী পার হয়ে ঢাকার পথে রওনা হই। বর্তমানে তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুই বন্ধুর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পটুয়াখালী শহরের সিঅ্যান্ডবি রোড এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর বন্ধুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মিজু আর সাগর ছিল একে অপরের ছায়াসঙ্গী। একজন চলে গেল, আরেকজন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে—এ দৃশ্য কেউ মেনে নিতে পারছে না।
দুর্ঘটনার বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। নিহত ব্যক্তি বরিশালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
