প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন এবং কিছুক্ষণ শিশুদের সঙ্গে আনন্দপূর্ণ সময় কাটান। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায় পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। দেশ এবং জনগণের কাছে যেই প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়ে এসেছি, সেসব কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং- কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার।
এ সময় জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে– এই রাষ্ট্রের মালিক এই দেশের জনগণ। তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং-কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কেবল একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই নয়; এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠন এবং মানবসম্পদ বিকাশের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্বের বিকাশ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি বিয়ামের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা– এগুলোকেই আমরা প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের অটোগ্রাফ
সকালে বিয়াম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটরিয়াম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করতেই নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই অবস্থিত বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে হাত নাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে। বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি নিজেও তাদের হাত নেড়ে সাড়া দেন। এরপর তিনি চলে যান বিয়াম মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বিয়াম ল্যাবরেটরি ফাউন্ডেশনের তৃতীয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী হুট করেই স্কুল পরিদর্শনে যান। স্কুলে তাঁর উপস্থিতি খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন ছিল বিস্ময়ের, তেমনি প্রধানমন্ত্রীর জন্যও ছিল ভিন্ন অনুভূতির।
প্রেস উইং আরও জানায়, ক্লাসরুমে ঢুকেই প্রধানমন্ত্রী মিশে যান শিশুদের সঙ্গে। কুশল বিনিময়ের ফাঁকেই শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কেমন আছ তোমরা? কেমন চলছে পড়াশোনা? পড়াশোনার পাশাপাশি কিন্তু বেশি করে খেলাধুলাও করতে হবে। খেললে কিন্তু বুদ্ধি বাড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন কথায় ওপাশ থেকে এক শিক্ষার্থী সায় দিয়ে বলে ওঠে, ‘আপনি ঠিক বলেছেন!’ শিশুদের এমন প্রাণবন্ত জবাবে প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন।
হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশনা-
রাজধানীর সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজয়ান রশিদের গো-কার্ট চালালেন প্রধানমন্ত্রী
কলেজ শিক্ষার্থী রিজয়ান রশিদের নির্মিত গো-কার্ট (রেসিং কার) চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে গো-কার্টটি পরিদর্শন করেন তিনি।
দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন রিজওয়ান রশিদ। সেখানে নিজের তৈরি গো-কার্ট প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। আগ্রহভরে নতুন এই যানটি পর্যবেক্ষণ করেন তারেক রহমান।
