নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ভালোবাসা, স্বপ্ন আর সংস্কৃতির মায়াজালে মোড়া এক অনন্য আয়োজন
লাল-সাদার মায়াবী ছোঁয়ায় মোড়ানো সকাল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ঢাকের তালে তালে হৃদস্পন্দনের মতো এক অদ্ভুত ছন্দ। ঠিক এমনই এক রঙিন, আবেগঘন আর রোমাঞ্চকর পরিবেশে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি।

ক্যাম্পাসজুড়ে যেন ছড়িয়ে পড়েছিল ভালোবাসার নরম আলো। কারও চোখে স্বপ্ন, কারও মুখে হাসি—আবার কারও হাতে প্রিয় মানুষের হাত। যেন বসন্ত আর বৈশাখ এক হয়ে গড়ে তুলেছে অনুভূতির এক অদৃশ্য সেতু। তরুণ-তরুণীদের প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন পেয়েছিল এক অনন্য রোমান্টিক আবহ।

সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে বাংলার গ্রামীণ জীবন, লোকসংস্কৃতি আর চিরচেনা রূপকথার প্রতিচ্ছবি। রঙিন মুখোশ, আলপনা আর নান্দনিক সাজে সেজে ওঠা শিক্ষার্থীরা যেন হয়ে উঠেছিল জীবন্ত শিল্পকর্ম।

সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল গান, নৃত্য আর কবিতার অপূর্ব সমন্বয়। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের সুরে যখন ভেসে যাচ্ছিল চারপাশ, তখন অনেকেই হারিয়ে গিয়েছিলেন নিজেদের ভালোবাসার গল্পে। কেউ গুনগুন করে গেয়েছেন, কেউ বা নিঃশব্দে তাকিয়ে থেকেছেন প্রিয় মুখটির দিকে—যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য।

খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল বৈচিত্র্যের ছোঁয়া—পান্তা-ইলিশ থেকে শুরু করে নানা পিঠা-পুলি। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আড্ডা আর প্রিয়জনের সঙ্গে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো মিলিয়ে তৈরি হচ্ছিল স্মৃতির এক রঙিন ক্যানভাস।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভালোবাসার দেয়াল, যেখানে শিক্ষার্থীরা লিখে রেখেছেন নিজেদের অনুভূতি, স্বপ্ন আর গোপন ভালোবাসার কথা। কেউ লিখেছেন—এই বৈশাখেই তোমায় বলতে চাই, তুমি আমার সবচেয়ে সুন্দর শুরু। আবার কেউ শুধু এঁকেছেন একটি লাল হৃদয়—নিঃশব্দ অথচ গভীর।

দিনশেষে সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ছে, তখনও ক্যাম্পাসজুড়ে রয়ে গেছে সেই আবেগের উষ্ণতা। নতুন বছর শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়—এ যেন নতুন করে ভালোবাসার শুরু, নতুন করে বেঁচে থাকার অঙ্গীকার।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির এই বর্ষবরণ যেন প্রমাণ করে দিল—সংস্কৃতি, প্রেম আর তারুণ্যের মিলনেই তৈরি হয় জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্প।
