শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজউকের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ, সাধারণ চাকরি থেকে বিলাসবহুল সম্পদের পাহাড়, প্রশ্নের মুখে সম্পদের উৎস

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ২৪, ২০২৬ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীতে একটি বাড়ি নির্মাণ আজও অসংখ্য মানুষের আজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে রাজউকের নকশা অনুমোদন, জমি সংক্রান্ত ছাড়পত্র ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য।

অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম মেনে আবেদন করলেও মাসের পর মাস ফাইল আটকে থাকে, অথচ অনিয়মের পথে হাঁটলে দ্রুত মিলছে কাঙ্ক্ষিত সেবা। এই অভিযোগের পটভূমিতেই আবারও সামনে এসেছে রাজউকের এক কর্মকর্তার বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) স্টেট পরিদর্শক ফারুক হোসেন মালুম। অভিযোগ অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বর্তমানে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক দোকান এবং মূল্যবান সম্পদের মালিকানা রয়েছে। এসব সম্পদের সম্ভাব্য মূল্য শত কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, যদিও এ দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দ্বিতীয় শ্রেণির স্টেট পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। সরকারি বেতনভুক্ত একজন কর্মকর্তার স্বাভাবিক আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে তার কথিত সম্পদের পরিমাণের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলশান-১ এলাকার ২১ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়ির ১/বি নম্বর একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তার মালিকানাধীন। এছাড়া উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়ি, ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ৫৫ নম্বর বাড়িতে চারটি ফ্ল্যাট এবং ৩ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ির মালিকানার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। পূর্বাচলে একটি প্লট থাকার তথ্যও উঠে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বরাদ্দ পেয়েছেন।

আবাসিক সম্পদের পাশাপাশি অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজউক ট্রেড সেন্টারেও তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক বাণিজ্যিক দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ ও ৩৮ নম্বর দোকানের মালিকানার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারীর নামে এত বিপুল সম্পদ কীভাবে গড়ে উঠল—সে প্রশ্ন এখন রাজউকের ভেতরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্প, নকশা অনুমোদন, জমি ও উচ্ছেদ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর বিপুল অর্থ অর্জন করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

জানা গেছে, ফারুক হোসেন মালুম ২০০০ সালে রাজউকে ওয়ার্কচার্জড ভিত্তিতে নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৬ সালে চাকরি নিয়মিত হয়, ২০১৩ সালের শেষ দিকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি পান এবং পরে স্টেট পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, “জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে ফারুক হোসেন মালুম বলেন, উত্তরার ৫৫ নম্বর বাড়ির চারটি ফ্ল্যাট এবং পূর্বাচলের প্লট ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত অন্য সম্পদ আমার নয়।

এদিকে স্টেট ও ভূমি-১ বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ফারুক হোসেন মালুমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।