কালনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ছবি: সংগৃহীত
স্বামীর মরদেহ বুকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন স্ত্রী। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সেই হৃদয়বিদারক যাত্রাই হয়ে উঠল তার নিজের জীবনের শেষ পথচলা। নড়াইলে অ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুইজন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইল-কালনা মহাসড়কের বাদশার গ্যারেজ এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিহতরা হলেন যশোরের মাহিদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম এবং লক্ষ্মীপুর জেলার পূর্বচককলাপোতা গ্রামের বাসিন্দা অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল থেকে স্বামী ইসমাইল হোসেনের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোরের মাহিদিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন জাহানারা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর শোক তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিতে মরদেহ নিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পথে কালনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় অ্যাম্বুলেন্সটি।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান জাহানারা বেগম। পরে আহতদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত আরও পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
একই অ্যাম্বুলেন্সে ছিল স্বামীর নিথর দেহ, আর ছিলেন শোকাহত স্ত্রী। গ্রামের পথে সেই শেষযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় আরেকটি শোকাবহ ঘটনায়। স্বামীকে বিদায় জানাতে গিয়ে নিজেও চিরবিদায় নিলেন জাহানারা বেগম—যা স্বজনদের পাশাপাশি পুরো এলাকাজুড়েই সৃষ্টি করেছে গভীর শোকের ছায়া।
