জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী
ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে ভূমিকা রাখা সরকারি কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ করছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম-এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যেই অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর অংশগ্রহণ ২৯ শতাংশ।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান-এর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ এখনও শূন্য রয়েছে, যা দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে তিনি জানান, সচিব পদমর্যাদার ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার-এর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ৪৬তম বিসিএসে সময় লেগেছে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং ৪৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হয়েছিল ৩ বছর ৭ মাসে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্যাডারে ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ দ্রুত পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
