মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামে পালিত হয়েছে আগাম ঈদুল আজহা। বুধবার সকাল থেকেই ঈদের আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে এসব এলাকার জনপদ। প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে পশু কোরবানির মাধ্যমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
সকাল ৮টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শফিকুল ইসলাম আব্দুল গনি। নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা।

জানা গেছে, ১৯২৮ সালে এ অঞ্চলে আগাম ঈদ উদযাপনের এ রেওয়াজের সূচনা হয়। প্রায় ৯৮ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ অনুযায়ী তারা ঈদসহ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
আগাম ঈদ উদযাপনকারী গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরীবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনি পাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, চন্দ্রপাড়া, দ্বি-পাশা, কনকদিয়া, সাবুপুরা, বামনিকাঠী, বানাজোড়া ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণ দেবপুর, পাটুয়া, মরিচবুনিয়া, নাইয়াপট্টি, নিশানবাড়িয়া, শাফাখালী, তেগাছিয়া, ছোনখোলা ও বাদুরতলীসহ আরও কয়েকটি গ্রাম। এসব এলাকায় প্রায় ৭ হাজারের বেশি পরিবার এ প্রথা অনুসরণ করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হানিফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। তাদের বর্তমান পীর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হজরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।
বদরপুর দরবার শরিফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ শফিকুল গনি বলেন, “পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য সংবাদ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করা শরিয়তসম্মত।
এদিকে আগাম ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।
