রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভের ছায়া। পরিবারের দাবি, নিষ্পাপ এই শিশুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাড়ির পাশের একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। অথচ এর আগের পুরো রাতজুড়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশ, পুকুরপাড়, ঝোপঝাড় ও জঙ্গল ঘিরে চালিয়েছিলেন ব্যাপক তল্লাশি। কিন্তু কোথাও মেলেনি ছোট্ট শিশুটির কোনো খোঁজ।
নিহত হুমায়রা জান্নাত স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশেই সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল সে। হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যায় আদরের শিশুটি। পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে শনিবার সকাল ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণাও দেন বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—কয়েক ঘণ্টা পরই বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হয় ছোট্ট হুমায়রার নিথর দেহ।
মেয়ের মরদেহ বুকে জড়িয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে বাবা হাসিবুল বলেন, যখন মেয়েকে কোলে তুলি, মনে হচ্ছিল পুরো শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। তার মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছিল। আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
পরিবারের দাবি, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও ছিল। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের আঘাতের আলামত না মিললেও শিশুটির পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে কয়েকটি ছোট জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চনন্দ সরকার জানান, কে বা কারা শিশুটির মরদেহ সেখানে ফেলে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন রহস্যঘেরা মৃত্যুতে পুরো এলাকায় বইছে শোকের মাতম। আর এক বাবার বুকফাটা আর্তনাদ এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে চারদিকে—
“আমার হুমায়রাকে যারা কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিচার চাই…”
