ভেজাল, ভয়ভীতি ও নীরব প্রশাসন—জুরাইনের এক মসলা মিল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ। ফাইল ছবি
রাজধানীর জুরাইন বালুর মাঠ এলাকার একটি হলুদ-মরিচ ভাঙানোর মিলকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মিলটিতে হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মসলার সঙ্গে নিম্নমানের ও সন্দেহজনক উপাদান মিশিয়ে গুঁড়া করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিলটির মালিক জনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিচালিত মিলে বিভিন্ন মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ভেজাল বা মানহীন উপাদান মেশানোর কার্যক্রম চলছে। এসব মসলা স্থানীয় বিভিন্ন হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা যাচাই এবং তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মিলের মালিক জনি সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিলের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং তথ্য সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও অনুসন্ধানী তথ্য সংগ্রহে গেলে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ উঠেছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যদি সত্যিই মসলার সঙ্গে ভেজাল উপাদান মেশানো হয়ে থাকে, তবে তা শুধু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি গুরুতর হুমকি। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া এবং ভেজাল মসলা উৎপাদনের অভিযোগ সম্পর্কে মিল মালিক জনির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি সবকিছু নিয়মমাফিক হয়ে থাকে, তাহলে তথ্য সংগ্রহে বাধা কেন? আর যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তবে জনস্বাস্থ্য নিয়ে এমন ভয়ঙ্কর খেলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি কেন?
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
(চলবে…)
